(১০১টি কবিতার সংকলনঃ মূল - রুবাইয়াতে ইবনে আবিল) বেদুইন ছদ্মনামে (১) আমায় তুমি বলতে পারো নইকো আমি পূণ্যবান; কিন্তু তোমায় জিজ্ঞাসি ভাই, এই ধরা কি পূণ্যথান? নিত্য হেথা দেয় যে দাগা চোখ ঠেরে লোভ সুন্দরী, লালসা মাতাল ঝাপটে ধরে করায় সবে মদ্যপান। (২) পড়লে নামাজ, দানলে যাকাত, হজ্ব ও রোজা করলে তাও, ভাবছো বুঝি বেহেশ্তেতে দশটা হুরী মিলবে ফাও? হায়রে বোকা এইটুকুতে পারের কড়ি মিলবে কি? লোকের ক্ষতি করলে যত, তার ভারে যে ডুববে নাও! (৩) বলল খোদা, নামাজ পড়ো স্মরন করো আমার নাম; তাইলে ভবের মেলায় ঘুরে করবে না আর পাপের কাম। পড়লে নামাজ, করলে পাপও স্মরন কোথা করলে তাঁর! হায়রে বৃথাই মাটির পরে ঠুকলে মাথা দিবস-ঘাম। (৪) অনেক দিনের এই ধরাতে অনেক পরে এলাম ভাই; চারদিকে এর আবর্জনা স্বস্তি মোটেই পাইনে তাই। সবাই বলে, এইটে আমার, সাফ করা এক বিষম দায়; ফিরছি খুঁজে মিলবে কোথা মনের মতো একটু ঠাই। (৫) বলছে সবে কোরান হলো খোদার বাণী অলৌকিক। আকাশ মাটি মানুষ পশু এরাও খোদার, এওতো ঠিক! এদের মাঝে সত্য যেটুক কোরান থেকে কম কি তা; কেমন করে করবে হেলা গায়যে গীতি কোকিল পিক। (৬) বলছো ওরা পুতুল পূজে করলো খোদার অংশীদার; তোমরা করো মানুষ পূজা ওর চেয়ে এ কম কি আর! মাটির পুতুল খায়রা কিছু চায়না কিছু আপনিতে; মানুষ পুতুল চায় যে অনেক, ফুড়ায়নাতো বায়না তার। (৭) শুধুই কি পীর, মাটির ঢিবি তার পূজাতেও কামাই নেই; ঠগ্বাজেরা বুঝলে ভাল পয়সা নেবার সুযোগ এই। জীবন কালে পারলো না যে করতে লোকের বিপদ দূর, ভাবলে কিসে মরার পরে সবার ভাল করবে সেই। (৮) কবর, পীর আর দেয়া তাবিজ এতেই যদি চলতো কাম - তাইলে ধরায় মানুষ কি আর ফেলতো পায়ে মাথার ঘাম! সামনে তোমার ঘটছে যত পীর কবজের কোনটি এর? হায়রে বেকুফ ধরলে বৃথাই সবার সেরা মানুষ নাম। (৯) কোরান এলো সকল লোকে দেখাতে এক পথের চিন্; বুঝলে না তার কথার মানে পড়লে শুধু রাত্রিদিন। তাইতো দেখি তাবিজ লিখে পড়ছো গলে আয়াত তার, খোদার বাণী কিসের তরে এমন করে ভাবলে ভিন। (১০) মুখেই শুধু বলছো তুমি সবার বড় খোদার শান। আসলে তারও চাইতে বড়ো তোমার কাছে টাকার মান। পাগল হয়ে ওর পিছু তাই ছুটছো তুমি দিগ্বিদিক; ওর পাওয়াতেই জীবন সফল আর না পেলেই হারাও জ্ঞান।