উটকোর জিভ [গোড়া] কোত্থেকে এলো এক উটকো; হাত পাও প্যাকাটি, পেট যেন চাপাটি, গাল দুটো একদম শুঁটকো। কদ্দিন খায়নি সে অন্ন, ছেঁড়া তার বেশবাস, উসখুসে কেশপাশ দেখে মনে হয় মতিচ্ছন্ন। দেখে তার করুণার মূর্তি ও পাড়ার খয়রাত খেতে দিলো ডালভাত, এনে দিলো নয়া এক কুর্তি। খেয়ে দেয়ে গায়ে হলো শক্তি, নাচে গায় ধেই ধেই পড়ে থাকে সেখানেই খয়রারে করে খুব ভক্তি। খয়রার বউ করে রান্না উটকো সেগন্ধে মনের আনন্দে হাউ মাউ জুড়ে দেয় কান্না। বউ বলে, ‘খাক্ দুটি পান্তা,’ খেতে খেতে গরমও নেই কোনো শরমও বকে যেন সেই সবজান্তা। এই করে কিছুদিন চললো, একদিন আপোষে ‘বলো কারে কে পুষে !’ খয়রাত উটকোরে বললো। উটকো তা শুনে হলো ধন্ধ, চোখ করে চকচক জিভ করে লকলক - খাওয়া তার কেন হবে বন্ধ? ‘কে বলেরে নেই মোর ধান্দা বেঁচে আছি এই ঢের করবো কি বলো ফের, আমিওতো আল্লার বান্দা!’ এই বলে মারে জোরে লম্ফ, যেনো এক দন্তু বিদঘুটে জন্তু দেখে তারে গায়ে লাগে কম্প। ওপাড়াতে ছিলো যুবসঙ্ঘ, দেখে সেই দলবল চোখ করি ছলছল শেষটায় রণে দিল ভঙ্গ। খয়রাত হাফ ছেড়ে বাঁচলো লোকটাকি সাক্ষাত হারে হারে বজ্জাত এ কদিন কাঁধে চড়ে নাচলো! [মাঝা] উটকোরে তাড়িয়ে দিলে গাঁও ছাড়িয়ে খয়রাত ভাবে হলো মুক্ত; বৌ তার খুশিতে তার মন তুষিতে রেঁধে ফেলে ডালনা ও শুক্ত। দিন গিয়ে হয় রাত খেতে বসে খয়রাত সারাদিন ছিল সে অভুক্ত। চারদিক চুপচাপ, অমনিরে ধুপধাপ কোত্থেকে হয় ঢিলা বিষ্টি; খাওয়া হলো আধখান দিলে চোচা পিঠটান - বউ বলে, একি অনাশিষ্টি! ঝোপটার ওপাশে খুকখুক কে হাসে , এইটুকু দেখো না গো তিষ্টি।’ খয়রাত বলে,‘ভূত দেখ্ যদি পাও জুত চট করে দেবে ঘাড় মটকে; বৌ বলে,‘আ মলো, মিনসের কি হলো ঘর ছেড়ে যায় কোথা সটকে! ভূত নয় নির্ঘাৎ এটা কোন বজ্জাত হবে বলে মনে হয় খটকে।’ নিয়ে আসে লোকজন খুজে দেখে ঝোপবন কই কোথা নেই কিছু লুকিয়ে। বৌ বলে,‘খেতে যাও হাত মুখ ধুয়ে নাও ভাত দুটি গেল বুঝি শুকিয়ে।’ ওমা! দেখে ভাত নেই ভূত আর হোক যেই দিয়ে গেছে সেই পাট চুকিয়ে। পর পর কয় রাত হলো এই উৎপাত লোকজন হয়ে গেল ত্যক্ত, শুধু ঢেলা দেখিয়ে রাখে কতো ঠেকিয়ে নিজেরাও যদি কিছু দেখতো। শেষে হয়ে নিরুপায় ব্যাপারটা ভিন গাঁয় গুনীদের কাছে করে ব্যক্ত। শুনে কথা দেখে চিন গুণী বলে,‘ওটা জিন, তাড়ানোটা হবে কিছু শক্ত; পাঁচসের আলো চাল কাঁচা মুগ তিন থাল দুটি কালো মুরগের রক্ত, রেখে এক পাত্রে শনিবার রাত্রে ভোগ দিলে জিন হয় ভক্ত।’ করে সব উদ্যোগ খয়রাত দিলে ভোগ তবু জিন হয়নাকো শান্ত; কোত্থেকে মারে ঢিল হাসে শুধু খিলখিল হররাত, তবু নয় ক্লান্ত। বৌ বলে,‘জিন নয়, করে দেখে নির্ণয়, জীন হলে গুনীনকে মানতো।’ খররাত শেষটা করে বহু চেষ্টা সঙ্ঘের ছেলেদের ধরলে, বলে,‘দাও বাবারা করে এর কিনারা করবে কে তোমরা না করলে। জিন হোক ভূত হোক তোমরা কি পাবে সুখ আমি বুড়া ঢিল খেয়ে মরলে! শুনে তার কান্না ডানপিটে মান্না দলবল নিয়ে গেল রাত্রে, বেড় দিয়ে ঝোপবন বসে গেল দশজন কালিঝুলি মেখে মুখে গাত্রে। হয়ে সব চুপচাপ একসাথে দিলে ঝাঁপ কালোমতো কি, তা দেখা মাত্রে। ‘ওরে বাবা মেরো না কাপড়টা ছেঁড়োনা,’ বলে কালো জিন উঠে চেঁচিয়ে। আরে এযে উটকো মুখপোড়া শুঁটকো, সব মিলে বাঁধে তারে পেচিয়ে। কুঁদে বলে মান্না, ‘রাখ নাকি কান্না ছেড়ে দেবো তোর খাল খেঁচিয়ে।’ মেরে কয় মুষ্ঠা থেমে গেল রোষটা, দেখে ওর নেই সাড়া শব্দ। সবে বলে হায়ওে মারা যদি যায়রে সকলের হতে হবে জব্দ। তাই করে ঘাড়েতে দূরে নদী পাড়েতে রেখে এলো পাড়া হলে স্তব্ধ। শেষ হলো উৎপাত মনে ভাবে খয়রাত এইবার হবে বুঝি শান্তি। নাহি যেতে সাতদিন বুড়া সলিমুদ্দিন ঢিল খেয়ে ঘোচালো ঘুচালো সে ভ্রান্তি। তারপর দুর্যোগ শুরু হলো ঢিলভোগ সকলের শিরে সংক্রান্তি! রাতে তাই পাড়াতে পথে পাও বাড়াতে ভয় হয়, মাথা বুঝি ফাটলো; ছেলেদের দলটা পেলো খুব ফলটা খুজে খুজে বহুরাত কাটলো। হলো নাকো ব্যক্ত শেষে হয়ে ত্যক্ত যার যার পথে সবে হাঁটলো। [আগা] ও পাড়াতে ছিলো সেই বুড়ো সলিমুদ্দি ঢিল খেয়ে মগজেতে হলো তার বুদ্ধি। একদিন সবাইকে ডেকে তাই বল্লে, ‘কোনো কাজ হবে না গো হৈচৈ কল্লে। আমার তো মনে হয়, উটকোর কাজ এ ভালো করে খুঁজে দেখো কোন খানে থাকে সে। তারে নিয়ে এলে তবে পাবে সবে মুক্তাঁরে এই বলে কানে কানে বলে দিলো যুক্তি। একরাত কেটে গেলো তার কথা বুঝতে, তার পরে সবে মিলে লেগে গেল খুঁজতে। পেলো তারে ভিনগাঁয় এক পড়ো বাড়ীতে চেনা দায় নাক মুখ ঢাকা চুল দাড়িতে। কোত্থেকে বাগিয়ছে এক ছেঁড়া কম্বল, গায়ে এক ছেঁড়া জামা - এই তার সম্বল। ঝিম মেওে পড়ে আছে, দেখে তার এই বেশ দূর থেকে মনে হবে পাকা এক দরবেশ। গলিমুদ্দিন গিয়ে তাই বলে ডাকলো, পয়লাই পাওধূলো গায়ে মুখে মাখলো। বলে, ‘বাবা! দয়া কওে পারো তুমি বাঁচাবার সারা গাঁও জিন ভূতে কওে দিলো ছারখার। হররাত ঢিল পড়ে নিঁদ নাই চক্ষে, তুমি যদি যাও সেথা পাবে সবে রক্ষে।’ একে একে দুয়ে দুয়ে হয়ে গেল মেলা ভীড় সবে কেঁদে কেঁদে বলে, ‘দয়া হোক বাবাজীর!’ কথা শুনে উটকোর লেগে গেল ধান্দা, যাই কেনো হোক সেতো আল্লার বান্দা। সবে মিলে ধরে তারে তুলে গরু গাড়ীতে নিয়ে এলো সেই বুড়ো সলিমের বাড়ীতে। সারা গাঁও ছুটে এলো দেখে তার মূর্তি জিন ভূত দূর হলো বলে করে স্ফূর্তি। ডানপিটে ছেলেদের নেতা সেই মান্না এক বড়ো খাসি এনে জুড়ে দিলো রান্না। হৈচৈ হাঁক ডাকে উটকোর সন্দে ঘুচে গেল, চোখ দুটি নাচে মহানন্দে। বহুদিন পেটে তার পড়ে নাকো অন্ন, রান্নার বাসে তাই হলো মতিচ্ছন্ন। একটানে পাঁচ থালা মেরে দিয়ে শেষটা দেখে আর নামে না যে, পেলো পানি তেষ্টা; ঢকঢক করে দিলো এক ঘটি সাবড়ে, তারপর কেনো জানি গেলো খুব ঘাবড়ে। এনে হলো পেটে তার লেগে গেছে যুদ্ধ, ঝিম ঝিম করে তার সারা দেহ শুদ্ধ। চারদিক তবু বলে,‘বাবা আর চারটা খেয়ে নাও জোর করে!’ কেবা শুনে কারটা, উটকোর ততোখনে হয়ে গেছে কর্ম গারা বপু দিয়ে তার ছুটে কাল ঘর্ম। তারপর ঝপ করে হাত পাও ছড়ায়ে চৌকির একপাশে পড়ে গেল গড়ায়ে। সলিমুদ্দিন বলে,‘ওরে তোরা ধরে তোল, এইখানে কিছু হলে হয়তো বা হবে গোল; কিবা দায় রেখে আয় নদীটার পাড়েতে।’ জনকয় রেখে এলো তারে করে ঘাড়েতে। শেষ রাতে পেট তার ফুলে জগঝম্প, শুরু হলো ভেদ বমি জ্বর স্বেদ কম্প। চোখ মেলে যতো চায় ততো পায় তেষ্টা পানি দেখে আঁকুপাকুঁ করে খুব চেষ্টা। উঠবার জোর নেই, শেষে হয়ে মরিয়ে কিছু গেলো বুকে হেঁটে কিছু গেলা গড়িয়ে। তবু পানি পেলো না সে, তেষ্টার জ্বালাতে জিভ তার মুখ ছেড়ে চায় যেনো পালাতে। বের হয়ে আধ হাত গেলো সেটা লটকে, খাঁচা ছেড়ে প্রাণপাখী গেলো তার সটকে। বাদশাজাদা নাক খাঁদা আর বেজায় হাঁদা এক যে ছিলো বাদশা জাদা তার কাহিনী বলবো এবার গোল করোনা কোন চুপটি করে শোনো। এই দেশেতে কোথাও হবে, ঠিক মনে নেই কখন কবে বাদশা ছিল বেজায় রাগী সব লোকেরে ভাবতো দাগী। বলতো, ‘সবাই করছে চুরি দেশটা হলো পাপের পুরী; তাইতো আমারে হয়না ছেলে হয়না রহম খোদার দেলে।’ শুনতে পেয়ে বেগম তাহা, বললে,‘এযে মিথ্যে ডাহা। পাপীর ছেলে হচ্ছে কতো আঁটকুড়ে নয় মোদের মতো।’ রাগলে শুনে বাদশা সাধু বললে,‘ওরা করছে যাদু, লুটছে সবাই আমার টাকা মরলে বেবাক করবে ফাঁকা। কিন্তু আমি মরার আগে করবো যা হয় আমার ভাগে, দেখবো খোদা কোথায় থাকে কাটবো পরে লোক গুলাকে।’ বাদশা সাধু এই না বলে নামলো গিয়ে নদীর জলে, ডুব দিয়ে সে দেখলো ভেসে পৌছে গেছে নতুন দেশে। নেইকো সেথা মানুষ-গরু রাস্তা গুলি বেজায় সরু। তার দু’ধারে অনেক ছাতা সবার নীচে আসন পাতা; আর সেগুলি এমনি কষা বসতে গেলে যায়না বসা; হাঁটতে গেলে মাথায় ঠেকে- বাদশা অবাক এসব দেখে। এমন সময় গরু-গ্-গরু হঠাৎ হলো বৃষ্টি শুরু। অমনি দেখে হাজার হাজার জমলো সেথা ব্যাঙের বাজার, বসলো সবাই ছাতার নীচে বাদশা শুধু রইলো পিছে, ভিজছে কাপড় কাঁপছে দেহ ছাতায় জায়গা দেয় না কেহ। বাদশা রেগে মারলে লাথি ভাঙলো তাতে তিনটে ছাতি। ব্যাঙরা তখন ধরলো তারে লাফ দিয়ে সব উঠলো ঘাড়ে; বললে ডেকে কানের কাছে, ‘করলে এমন বুঝবে পাছে আমরা নাকে কামড়ে দেবো তিনটে ছাতার শোধটা নেবো।’ বাদশা শুনে ছুড়লে পা হাত ব্যাঙরা তবু হয়না তফাত; উলটো ওরা সবাই মিলে নাকের ডগায় কামরে দিলে, পড়লো কাটা নাকটা বেবাক রক্ত দেখে বাদশা অবাক। অমনি গেলো ঝলসে আঁখি কোত্থেকে এক হুতুম পাখি আসলো উড়ে, বলরো, ‘কে রে, এমন করে ফেললো মেরে? লোকটা কেবা, কোথায় থাকে যাচ্ছে কোথা, চাইছে কাকে - নেই জানা তার মুন্ডু মাথা।’ ব্যাঙরা বলে, ‘ভাঙলো ছাতা, এর লাগিতো কামড়ে দিয়ে দিলেম ছেড়ে শোধটা নিয়ে।’ বললে হুতুম ধমকে উঠে, ‘বুদ্ধি তোদের নেই কি মোটে? তোদের খোদা হলাম আমি পালছি সবায় দিবস যামি।’ বাদশা শুনে উঠলো কেঁপে হাত দিয়ে তার নাকটা চেপে বললে,‘খোদা তোমার তরে এলাম হেথা কষ্ট করে। কিন্তু তোমার ফেরেশতারা করলে আমায় কামড়ে সারা।’ বললে হুতুম, ‘বিশ্রী ব্যাপার, বলতে পারো কী চাই তোমার, কিসের লাগি আসলে হেথা ঘুচবে কিসে তোমার ব্যাথা।’ বাদশা সাধু বললে শুনে, ‘তোমার দেখা কপাল গুনে পেলাম যদি, আমায় বলো রাজ্যি কেনো এমন হলো? সবাই মিলে লুটছে টাকা আমার মহল নিসটে ফাঁকা,. একটা ছেলে না হয় যদি লুটবে ওরা আমার গদি।’ এই না শুনে হুতুম বলে, ‘তোমার আশা উঠছে ফলে, যাও নিয়ে এই তিনটে ছাতি একটা ছেলে একটা নাতি একটা তোমার নাতির ছেলে - লাথির চোটে ভাঙা পেলে, নাকটা হবে হয়তো খাঁদা হোক না, তবু বাদশাজাদা।’ বাদশা শুনে উঠলো কেঁদে। বললে বেগম,‘শুনছো, হেঁদে, ঘুমের মাঝে এমন করে উঠলে কেঁদে কিসের তরে?’ বাদশা বলে,‘নাকটা আমার কামড়ে দিয়ে করলে সাবাড়-’ বেগম বলে,‘বকছো বাজে, কামড়ে দেবো কিসের কাকে!’ বাদশা তখন উঠলো রেগে ঘুমের থেকে উঠলো জেগে। বললে সবি বেগমকে সে বেগম শুনে উঠলো হেসে। বাদশা বলে,‘হাসলে কেনো স্বপ্ন শুধুই নয় এ যেনো, খোঁজ পেয়েছি ঠিক অশুধের আঁটকুড়ে নাম ঘুচবে মোদের।’ এই না বলে বদলে কাপড় আনলে ডেকে দশটা চাকর, বললে,‘তোরা আনবি বুঝে ব্যাঙের ছাতা তিনটে খুঁজে।’ দৌড়ে গেল চাকর গুলি ব্যাঙের ছাতা আনলো তুলি, খুব করে তা পিষলো শিলে বেগম পরে ফেললো গিলে। এর পরেতে কাটলো ক মাস, বেগম বলে,‘পাচ্ছি আভাস এবার ছেলে হতেও পারে মেয়ে হলেও পালবো তারে।’ বাদশা বলে,‘হোক্ তো আগে তাই হবে যা মোদের ভাগে।’ কাটলো ক্রমে তিনশ রাতি আঁধার ঘরে জ্বললো বাতি। বেগম কোলে ধরলে ছেলে অন্য সবাই মিষ্টি খেলে। কিন্তু ছেলের নাকটা বোঁচা হাজার টিপেও হয়না উঁচা। মনের দুখে বাদশা বলে, ‘এমন করেও স্বপ্ন ফলে! এর চেয়েতো আঁটকুড়ে নাম তাতেই ছিলো অনেক সুনাম।’ বেগম বলে, ‘নাকটা খাঁদা, হোকনা, তবুও বাদশাজাদা। সবাই তারে করবে খাতির খোদার শোকর, বংশে বাতির যাহোক তবুও হিল্লে হবে নামটা বেঁচে থাকবে ভবে।’ নাক খাঁদা আর হোকনা হাঁদা বাড়লো তবু বাদশাজাদা। হাসতো সবাই, বলতো দেখে ‘বাদশা কি কেউ মানবে একে!’ বাদশা শুনে রাগলে ভারী করলে দেশে হুকুম জারী, ‘নাক উঁচা যার তাকেই ধরে পুরবি এনে কয়েদ ঘরে, তারপরে সব মারবি রাঁদা নাক যেনো হয় সবার খাঁদা।’ হুকুম শুনে সৈন্যরা সব বললে, ‘একী, খোদার গজব! মারবে রাঁদা সবার নাকে এই করে কি রাজ্যি থাকে!’ সবাই মিলে উঠলো কেঁপে বাদশা কে তাই ধরলে চেপে, বললে গিয়ে, ‘আলমপনা, দেশটা হবে কয়েদ খানা; সব লোকেরে করতে খাঁদা লাগবে কয়েক হাজার রাঁদা, ঘষতে যাবে কয়েক বছর - এর চেয়ে কি হয়না জবর পালের গোদা সব কটাকে আনলে ধরে একটা পাকে।’ বাদশা বলে, ‘যা হয় করো সব কটাকে সাপটে ধরো। নাক যেনো আর না রয় উঁচা সবাই হবে সমান বোঁচা।’ সৈন্যরা সব করলে যে তাই, কান্ড দেখে অবাক সবাই - নাক দেখে আর কেউ হাসেনা, ভয়ের চোটে কেউ কাশে না। নাক খাঁদা আর বেজায় হাঁদা রইলো বেঁচে বাদশাজাদা। সেইতো দেশের বাদশা হবে ঠিক জানিনে কখন কবে!