নালিশ পুরের বালিশ মিয়ার পাঁচ’শ টাকার চাকরি, আমড়া কাঠের সখের চেয়ার তিন কুবে হয় লাকড়ি। দিন দুপুরে তিনটে শেয়াল মনের সুখে গাইছে খেয়াল; মালুর বৌয়ের ঘোমটা থেকেও যায় হারিয়ে মাকরি। বাজ পড়ে যে ঘরের চালে দিলেও গলা খাঁকরি। ফটফটিয়ে এলেন সায়েব পায়েতে তাঁর নাগরা। ধানের ক্ষেতে চিল পড়েছে, কে দেয় তাতে বাগড়া! মাছের বৌয়ের সাতটা নাতি তিনটা ঘোড়া চারটা হাতি; চিতল পেটী কাদা খোঁচাও যায় যে হয়ে তাগড়া। চশমা এঁটে চিকন বুড়ী ঘুরায় সাধের ঘাগড়া। চালের দামে এখন নাকি বিকায় তাজা রক্ত। ঘাপলা কোথায় কেউ বুঝেনা, ব্যাপারটা যে শক্ত! তাসের খেলা চলছে ভালো, দিন দুপুরে জ্বলছে আলো; নাকের ডগায় উড়ছে ফড়িং, যায় নামাজের অক্ত। বাজার মাজার সব একাকার হয়ে গাঁজার ভক্ত। ফৌজদারীতে যেতেই হবে সাতটা আছে মামলা, পাকনা চুলের বাছাই হবে, গোর মেরেছে আমলা। শিং গজিয়ে ধোবার গাধা জাবনা খেতে দেয় যে বাধা; মাগনা পেলে পয়সা দিয়ে কে নেয় বলো কামলা, বাবুই পাখির ঘরের মাঝে চড়–ই করে হামলা। চাকায় চাকায় টাকার খেলা কেউ পারেনা জান্তে। বালিশ মিয়ার নালিশ হলো আর পারেনা কান্তে। ঘরের মাঝে হুতুম থাকে, দোষ দেয়া যায় আর বা কাকে! কপাল বেয়ে ঘাম ছুটে যে বাজার করে আন্তে, এসব কথা ফলাও করে গেছেন লিখে দান্তে।