ছড়ার পড়া

অঃ	অজগর, অজগর! কোথা যাও ভাই?
	এখানে খাবার মতো কিছুই যে নাই।

আঃ	আম গাছে আম আছে, তা কি তুমি খাবে?
	কাঁঠালের ভুতি ছাড়া আর কিবা পাবে!

ইঃ	ইলিশ মাছের তেল, সেতো ভাল নয়;
	রোজ খেলে হয়ে যাবে মোটা অতিশয়।

ঈঃ	ঈগলের সাথে যদি কর মিতালী,
	তাহলে পেতেও পারো খড় বিচালী।

ঋঃ	ঋণের বোঝায় ভারী চাষী ও মজুর,
	তাদের খেলেও ক্ষিধে হবেনা কো দূর।

এঃ	এক্কায় চড়ে তুমি যেয়ো শহরে,
	দেখবে অনেক লীলা আট পহরে।

ঐঃ	ঐরাবতের পিঠে চেপেছে বানর,
	ঘাতে তার লাল ছাতি, গলায় চাদর।

ওঃ	ওল গুলি গোল হয়ে সাঁঝের বেলা,
	নদীর পাড়েতে গিয়ে জমায় মেলা।

ঔঃ	ঔষধ খেয়ে গরু কওে ছটফট,
	দাড়ি আর পৈতায় চেহারা বিকট!

কঃ	কাকগুলি কাকা রবে জুড়েছে খেয়াল,
	তাই শুনে হেসে মরে পাঁচটা শেয়াল।

খঃ	খলসে মাছের দল ডাকাতি করে,
	ফেঁদেছে বিরাট বাড়ী ভাটির চরে।

গঃ	গাধার খসেছে লেজ, হাতে নিয়ে বই,
	কতো বুলি কপচায়, মুখে ফুটে খই।

ঘঃ	ঘড়া গুলি সার বেঁধে জমায় মিছিল,
	আড় চোখে চেয়ে দেখে পড়ে কিনা চিল।

ঙঃ	ঙ-এর নৌকা চড়ে চলে খরগোশ,
	পানির দাপটে তার কাঁপে ফুসফুস।

চঃ	চাল নেই চুলো নেই নাম তার রাজা,
	সকাল বিকাল কষে খায় শুধু গাঁজা।

ছঃ	ছাগলের দাড়ি দেখে হাসে টিকটিকি,
	চোখে তার রোদ লেগে করে ঝিকিমিকি।

জঃ	জাল ফেলে রাস্তায় জেলে মাছ ধরে,
	পেলে কিছু ছেলে তার বস্তায় ভরে।

ঝঃ	ঝাল খেয়ে বুড়ো খোকা করে আহা উহু,
	মাথায় কোকিল বসে কওে কুহুকুহু।

ঞঃ	ঞ-র বোচকা পিঠে ভিখ মেগে খায়,
	এক হাতে লাঠি আর তসবি গলায়।

টঃ	টাট্টুর পিঠে চেপে যায় হাড়গিলা,
	মোটা ভুড়ি উসখুস গায় জামা ঢিলা।

ঠঃ	ঠেলা গাড়ী ঠেলে নেয় এক মোটা হাতি,
	মাথার উপরে তার ইয়া বড়ো ছাতি।

ডঃ	ডুগডুগি বেজে উঠে নাচে উট পাখী,
	কোলা-ব্যাঙ গলা ছেড়ে কওে হাঁকাহাঁকি।

ঢঃ	ঢাকের বাদ্যি বাজে লাউয়ের আসর,
	কুমড়া চশমা এঁটে বাজায় কাঁসর।

ণঃ	মূর্ধণ্য ণ তার মাথার কুসুম,
	নীচেতে হুতুম পেঁচা ডাকে হুমহুম।

তঃ	তোতাপাখী জুতা পায়ে যায় ইস্কুলে,
	ইলিবিলি কতো কী যে পড়ে বই খুলে।

থঃ	থলি হাতে আরশোলা যায় বাজাওে,
	একটা চিংড়ি কিনে তিন হাজারে।

দঃ	দোয়েল শালিক ঘরে বসে খেলে তাস,
	দোয়ারে দাঁড়ায়ে আছে এক পাঁতিহাস।

ধঃ	ধুমধাম হৈচৈ গাধা করে বিয়ে,
	নাকেতে নোলক দিয়ে কনে সাজে টিয়ে।

নঃ	নাম তার পান্তোয় খায় গুড়গুড়ি,
	গায়ে তার আরশোলা দেয় সুড়সুড়ি।

পঃ	পিউ পিউ ডাকে ডালে বিড়ালের ছাও,
	নীচেতে পাপিয়া ডাকে মিয়াও মিয়াও।

ফঃ	ফুটবল কেঁদে বলে বাঁচিনাতো আর,
	পাগুলি মারছে লাথি তবু বারবার।

বঃ	বকেরা চশমা এঁটে ইতিউতি চায়,
	পুঁটিমাছ হাসে তার বুকের তলায়।

ভঃ	ভালুকের হাতে ছাতি চলে থপ্থপ,
	মৌচাকে মৌমাছি করে নাম জপ।

মঃ	ময়ুর পেখম ধওে কাকা বলে ডাকে,
	কাক গুলি কেকা রবে খোঁটা দেয় তাকে।

যঃ	যাঁতি বসে কালাপাতি দিয়ে খায় পান,
	সুপারী ব্যাপারী সেজে জুড়ে দিলো গান।

রঃ	রতন মানিক নিয়ে খেলে কালসাপ,
	ব্যাং গুলি ঠ্যাং তুলে দেয় অভিশাপ।

[এ পর্যন্তই লিখে গেছেন]

ছড়ামী

নালিশ পুরের বালিশ মিয়ার পাঁচ’শ টাকার চাকরি,
আমড়া কাঠের সখের চেয়ার তিন কুবে হয় লাকড়ি।
	দিন দুপুরে তিনটে শেয়াল
	মনের সুখে গাইছে খেয়াল;
মালুর বৌয়ের ঘোমটা থেকেও যায় হারিয়ে মাকরি।
বাজ পড়ে যে ঘরের চালে দিলেও গলা খাঁকরি।

ফটফটিয়ে এলেন সায়েব পায়েতে তাঁর নাগরা।
ধানের ক্ষেতে চিল পড়েছে, কে দেয় তাতে বাগড়া!
	মাছের বৌয়ের সাতটা নাতি
	তিনটা ঘোড়া চারটা হাতি;
চিতল পেটী কাদা খোঁচাও যায় যে হয়ে তাগড়া।
চশমা এঁটে চিকন বুড়ী ঘুরায় সাধের ঘাগড়া।

চালের দামে এখন নাকি বিকায় তাজা রক্ত।
ঘাপলা কোথায় কেউ বুঝেনা, ব্যাপারটা যে শক্ত!
	তাসের খেলা চলছে ভালো,
	দিন দুপুরে জ্বলছে আলো;
নাকের ডগায় উড়ছে ফড়িং, যায় নামাজের অক্ত।
বাজার মাজার সব একাকার হয়ে গাঁজার ভক্ত।

ফৌজদারীতে যেতেই হবে সাতটা আছে মামলা,
পাকনা চুলের বাছাই হবে, গোর মেরেছে আমলা।
	শিং গজিয়ে ধোবার গাধা
	জাবনা খেতে দেয় যে বাধা;
মাগনা পেলে পয়সা দিয়ে কে নেয় বলো কামলা,
বাবুই পাখির ঘরের মাঝে চড়–ই করে হামলা।

চাকায় চাকায় টাকার খেলা কেউ পারেনা জান্তে।
বালিশ মিয়ার নালিশ হলো আর পারেনা কান্তে।
	ঘরের মাঝে হুতুম থাকে,
 	দোষ দেয়া যায় আর বা কাকে!
কপাল বেয়ে ঘাম ছুটে যে বাজার করে আন্তে,
এসব কথা ফলাও করে গেছেন লিখে দান্তে।