টুপিচোর

প্রথম দৃশ্যঃ

(একটি শহুরে গলি। পাশাপাশি তিনটি দোকানের সাইন বোর্ড দেখা যাচ্ছে। একটি তাবিজের, একটি গাঁজার ও একটি হাত গোনার। দোকান গুলির সামনে তিনজন খরিদ্দার এদিক সেদিক আনাগোনা করছে এবং অস্পষ্ট স্বরে কথা বলছে। এমন সময় একজন টুপিঅলা এসে সেখানে প্রবেশ করলো। সে গাঁজার দোকানের সামনে এসে দাড়াতেই খরিদ্দারদের মধ্য থেকে লুঙ্গি শার্ট পড়া ও মাথায় পট্টি বাঁধা ষন্ডা মার্কা একজন তার মাথার টুপি ধরে টান দিলো। অমনি লুঙ্গি-পাঞ্জাবী পড়া টুপিঅলা ঝাপটে ধরলো তাকে। খরিদ্দারদের মদ্য থেকে প্যান্ট শার্ট ও সাহেবী টুপি পড়া অন্য একজন এসে ঝাপিয়ে পড়লো তাদের মাঝখানে, বললো – “আরে করেন কি, করেন কি”। এই কথা বলতে বলতে সে আলগোছে টুপিঅলার বুক পকেটের মানি ব্যাগটি তুলে নিয়ে পাশে দাড়ানো পায়জামা পাঞ্জাবী ও টুপি পড়া অন্যজনের কাছে পাঁচার করে দিলো এবং সে মানি ব্যাগটি নিয়ে চুপিসারে সরে পড়লো। ইতি মধ্যে “করেন কি, করেন কি”-র জবাবে সামান্য সরে দাড়িয়ে টুপিঅলা)

টুপিঅলা – দেখছেন না এ বেটা আমার টুপি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে!
পকেটমার – তাই নাকি, বেটার আস্পদ্দাতো কম নয় – (এই বলে টুপিচোরের ঘাড় ধরলো এবং টুপিচোর মুখ কাঁচুমাচু করে ওর দিকে তাকালো) – বল বেটা, কোথায় রেখেছিস টুপি?
(ডানহাতের মুঠো আলগা করে উপরে তুলে ধরলো। সেখানে আধময়লা একটা পুরোনো টুপি।)
পকেটমার – অ্যাঁ, তাহলে ঠিকই টুপি চুরি করেছিস তুই! (এই বলে চোরের মাথায় একটা গাদা মেরে) – বল, কেন চুরি করেছিস?
টুপিচোর – পয়সা নেই, তাই।
টুপিঅলা – (টুপিঅলা ইতিমধ্যে নিজের পকেট সম্পর্কে সচেতন হয়েছে। সেখানে হাত দিয়েই সে বলে উঠলো) – কিন্তু আমার মানি ব্যাগ?
পকেটমার – কি বললেন, মানি ব্যাগও হাওয়া হয়ে গেছে?
টুপিঅলা – (পকেট হাতড়াতে হাতড়াতে কাঁদো কাঁদো স্বরে) – তাইতো দেখছি!
পকেটমার – তাহলে এ বেটাই নিয়েছে (এই্ বলে সে টুপি চোরের পকেট-গাঁট হাতড়াতে আরম্ভ করলো। একটি গাঁজার কলকে ছাড়া কোথাও কিছু পাওয়া গেল না। এবার সে টুপিঅলার দিকে তাকিয়ে বলল) – না. এর কাছে তো নেই।
(টুপি অলা কিছু না বলে একদৃষ্টে পকেটমারের দিকে চেয়ে রইলো)
পকেটমার – কী, আমাকে সন্দে করছেন? তাহলে খুঁজে দেখুন (এই বলে টুপিচোরকে ছেড়ে নিজেকে টুপিঅলার কাছে এগিয়ে দিলো। আর এই ফাঁকে টুপিচোর পালিয়ে যাবার জন্য পা বাড়ালো। ইতিমধ্যে পকেটমারের সঙ্গীও ফিরে এসেছে। সে এসে টুপিচোরকে একটা থাপ্পরই মেরে বসলো)
সঙ্গী – এভাবে হবেনা, চলুন, মহল্লার সর্দারের কাছে নিয়ে যাই।
পকেটমার – তাই চলুন, তাহলে মানি ব্যাগটারও খোঁজ পাওয়া যাবে।
(টুপিচোরকে ধরে নিয়ে তারা সবাই বেরিয়ে গেলো)

দিত্বীয় দৃশ্যঃ

(মহল্লার সর্দারের দরবার। একটি ফরাসের উপর সর্দার তার দু’জন চেলা নিয়ে বসে আছে। টুপিচোরসহ পকেটমার ও তার সঙ্গীরা প্রবেশ করতেই চেলা দু’জন এগিয়ে এসে বলল)

১ম চেলা – কী ব্যাপার?
টুপিঅলা – এই বেটা আমার টুপি ও মানি ব্যাগ দুটোই চুরি করেছে।
(এই কথা শুনতে শুনতেই সর্দার একটি টুপি মাথায় দিয়ে একটি তসবি ছড়া হাতে নিয়ে নিলো)
সর্দার – হুম, আপনার কোনো সাক্ষী আছে?
টুপিঅলা – (পকেটমার ও তার সঙ্গীকে দেখিয়ে) এরা দু’জন আমার সাক্ষী। তাছাড়া চোর নিজেও স্বীকার করেছে।
সর্দার – কিরে বেটা, মামলা কি সত্যি?
টুপিচোর – হ্যাঁ, টুপি আমি চুরি করেছি; কিন্তু মানি ব্যাগের কথা বলতে পারবো না।
সর্দার – কোথায় টুপি?
টুপিচোর – এইতো (ডান হাতের মুঠো মেলে ধরলো)।
সর্দার – তা টুপিই বা তুই চুরি করতে গেলি কেন?
টুপিচোর – পয়সা ছিল না তাই।
সর্দার – কিসের পয়সা?
টুপিচোর – গাঁজার পয়সা। আজ দু’দিন ধরে একছিলিমও জুটেনি।
১ম চেলা – আহ্ চুঁ চুঁ চুঁ, বেচারা একেবারে বেচাল হয়ে টুপিতেই হাত দিয়ে বসেছে। কিন্তু এই পুরোনো টুপি বেঁচে আর কয় পয়সা হতো।
২য় চেলা – এবার বল, মানি ব্যাগটা কোথায় রেখেছিস?
পকেটমার – আমিতো সাথে সাথেই খোঁজ নিয়ে ছিলাম। কিন্তু মানি ব্যাগ ও বেটার কাছে নেই।
সর্দার – (টুপিঅলার দিকে চেয়ে) ব্যাপার কি ঠিক?
টুপিঅলা – হাঁ, তাইতো মনে হলো।
সর্দার – তাহলে আর কি করা যাবে। তাছাড়া আপনার মানি ব্যাগে কত টাকা ছিল?
টুপিঅলা – ১৯৭১ টাকা ১০ পয়সা।
সর্দার – সেরেছে, আমিতো পাঁচশোর উপরে হলেই আর বিচার করার ক্ষমতা রাখিনা। টাকার ব্যাপারে তাই কোনো সাহায্য করতে পারবো না। তবে টুপির ব্যাপারে অবশ্যই সাহয্য করবো। এখন বলুন, আপনার টুপি ফেরত পেলে কি আপনি খুশি হবেন?
টুপিঅলা – টুপি না পেলেও চলবে। কিন্তু মানি ব্যাগ না পেলে গোষ্ঠি শুদ্ধ উপোস দিয়ে মরতে হবে।
সর্দার – তাতো ঠিক, তাতো ঠিক। তাহলে তো আপনাকে পুলিশ ফাঁড়িতে যেতে হবে, নালিশ করতে হবে।
(টুপিঅলা যাবার জন্য পা বাড়াতেই দু’জন চেলা তার সামনে হাত বাড়িয়ে বলল)
চেলা – আমাদের পাওনা?
টুপিঅলা – আমার কাছে তো ভাই কিছুই নেই।
পকেটমার – (টুপিচোরকে টুপিঅলার হাতে দিয়ে) এই নাও ভাই, মাফ করো।
(এই বলে দু’টি টাকা দু’জনের হাতে দিয়ে দিলো)
টুপিঅলা – এ কী করছেন?
পকেটমার – ঋণ দিচ্ছি, পরে দিয়ে দিবেন।
(টুপিচোরের হাত ধরে সবাই বেরিয়ে গেল)

তৃতীয় দৃশ্যঃ

(পুলিশ ফাঁড়িতে টেবিল সামনে নিয়ে চেয়ারে বসে আছেন পুলিশের কর্মকর্তা। বেশভূষা ছাড়া দেখতে অনেকটা সর্দারের মতই। সেই চেলা দু’জন যেন পোশাক বদলে রাইফেল হাতে দু’পাশে দাড়িয়ে আছে। টুপিচোর সহ পকেটমার ও তার সঙ্গীরা প্রবেশ করতেই এক জন পুলিশ এগিয়ে এসে বলল)

১ম পুলিশ – কী ব্যাপার?
পকেটমার – একটি চুরির কেইস, হাতে নাতে ধরা পড়েছে।
কর্মকর্তা – কী চুরি করেছে?
টুপিঅলা – আমার মানিব্যাগ।
পকেটমার – আগে টুপি, তারপর মানিব্যাগ।
কর্মকর্তা – তার মানে?
টুপিঅলা – মানে খুবই সোজা, টুপি চুরির ভয় দেখিয়ে মানি ব্যাগ হাতিয়ে নিয়েছে।
কর্মকর্তা – সাক্ষী আছে?
টুপিঅলা – (পকেটমার ও তার সঙ্গীকে দেখিয়ে) এই যে এরা দু’জন।
কর্মকর্তা – ঠিক আছে, নাম বলুন।
টুপিঅলা – আমার নাম – ফেলু মিয়া,
বাপের নাম – ফালতু মিয়া,
গ্রাম – কেবলার চর।
কর্মকর্তা – (লিখতে লিখতে) কী কাজ করেন?
টুপিঅলা – কেরাণী, আফিসের কেরাণী।
কর্মকর্তা – (টুপিচোরের প্রতি) কিরে বেটা তোর নাম কী?
টুপিচোর – আমার নাম পাঞ্জু বেকার,
বাপের নাম – জানিনা,
গ্রাম – গাছতলা।
কর্মকর্তা – বাপের নাম কী বললি?
টুপিচোর – বললাম তো, জানিনা।
কর্মকর্তা – (পকেটমারের দিকে) আপনার নাম কী?
পকেটমার – টেলকম পাউডার,
পিতার নাম – কলম্বাস,
ঠিকানা – হাইজাক পাড়া।
কর্মকর্তা – আপনি কী চুরি করতে দেখেছেন।
পকেটমার – হ্যাঁ, দেখেছি।
কর্মকর্তা – (পকেটমারের সঙ্গীর প্রতি) আপনার নাম কী?
সঙ্গী – আলহাজ্ব পোশাক মিয়া,
বাপের নাম – ব্যাংক লুট মিয়া,
বাড়ী – জোদ্দার পাড়া।
কর্মকর্তা – আপনি কী চুরি করতে দেখেছেন।
সঙ্গী – না, দেখিনি; মিঃ টেলকমের কাছে শুনেছি।
কর্মকর্তা – (টুপিঅলার প্রতি) ব্যাস, (পুলিশের প্রতি দেখিয়ে) চুরির বিবরণটা এদের কাউকে দিয়ে লিখিয়ে দাখিল করে যাবেন। আসামী কোর্টে চালান হবে। সেখানে আবার দেখা হবে।
(এই বলে কর্মকর্তা উঠে পড়লেন। টুপিঅলা পাশের পুলিশটির দিকে তাকাতেই সে হাত বাড়িয়ে দিল।)
টুপিঅলা – আমার কাছে একটি পয়সাও নাই, ভাই!
অন্য পুলিশ – (টুপিচোরের প্রতি) মানিব্যাগ কী করলি?
টুপিচোর – মানিব্যাগ আমি নিইনি।
অন্য পুলিশ – তবে কে নিয়েছ? বলবি, না প্যাদানী খাবি!
পকেটমার – থাক ভাই, এই নিন (পাঁচ টাকার দু’টি নোট বের করে দুই পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিলো)।
টুপিঅলা – এ কী করছেন ভাই!
পকেটমার – কিছুনা, সাহায্য করছি, ঋণ দিচ্ছি, পরে দিয়ে দেবেন, এখন চলুন যাওয়া যাক্।
(টুপিচোর ছাড়া অন্যরা বেরিয়ে গেল। পরে পুলিশ দু’জন চোর কে বেঁধে নিয়ে চলে গেলো।)

চতুর্থ দৃশ্যঃ

(কোর্টে হাকিমের এজলাশ। টেবিল সামনে নিয়ে চেয়ারে বসে আছেন হাকিম। বেশ ভূষা ছাড়া চেহারা অনেকটা পুলিশ কর্মকর্তার মতোই। কাঠগড়ায় দাড়িয়ে আছে টুপিচোর। অন্যদিকে পেশকারের কাছে দাড়িয়ে আছে টুপিঅলা ও পকেটমার। সামনে বসে আছে দু’জন উকিল। বেশ ভূষা ছাড়া চেহারায় আগের পুলিশ দু’জনের মতোই।)

পেশকার – বাদী পক্ষের উকিল মামলা শুরু করতে পারেন।
বাদী উকিল – (বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে) ধর্মাবতার, এই আসামী পাঞ্জু বেকার আমার মক্কেল ফেলু মিয়ার টুপি ও মানিব্যাগ চুরি করেছে। মিঃ টেলকম ও আলহাজ্ব পোশাক মিয়া এই চুরির সাক্ষী।
হাকিম – সাক্ষী মিঃ টেলকমকে হাজির করুন।
পেশকার – মিঃ টেলকম হাজির…।
(টেলকম এসে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়ালো এবং নিজেই – “যাহা বলিব সত্য বলিব” বলে শপথ গ্রহণ করল।)
বাদী উকিল – আচ্ছা, মিঃ টেলকম, আপনিতো আসামীকে চুরি করতে দেখেছেন, তাইনা?
টেলকম – হ্যাঁ, তবে টুপি চুরি করতেই দেখেছি, মানিব্যাগ নয়।
বাদী উকিল – তা হলে মানিব্যাগ কে চুরি করল?
টেলকম – আমি বলতে পারবো না।
হাকিম – বিবাদী পক্ষের উকিল কি সাক্ষী কে জেরা করবেন?
বিবাদী উকিল – না, ধর্মাবতার, সাক্ষী আমার পক্ষেই কথা বলেছে। জেরার দরকার নেই।
হাকিম – দ্বিতীয় সাক্ষী।
পেশকার – সাক্ষী আলহাজ্ব পোশাক মিয়া হাজির…।
(পোশাক মিয়া এসে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়ালো এবং নিজেই – “আমি মিথ্যা কথা বলিনা” বলে শপথ নিল।)
বাদী উকিল – আচ্ছা পোশাক মিয়া, আপনি তো আসামীকে চুরি করতে নিশ্চয়ই দেখেছেন?
পোশাক মিয়া – না, আমি দেখেনি, তবে মিঃ টেলকমের কাছে শুনেছি।
বাদী উকিল – তার কথা শুনেই আপনি বিশ্বাস করলেন?
পোশাক মিয়া – মিঃ টেলকম বিদেশী মানুষ, তারতো মিথ্যা বলার কারণ নেই।
হাকিম – বিবাদী পক্ষের উকিল কী সাক্ষীকে জেরা করবেন?
বিবাদী উকিল – না, ধর্মাবতার, জেরার কোনো প্রয়োজন নেই। এ মামলা যে মিথ্যা, সাক্ষীরা নিজেরাই তা প্রমান করেছেন। তবে আমি বাদী ফেলু মিয়াকে দুয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই।
হাকিম – ফেলু মিয়াকে হাজির করুন।
পেশকার – ফেলু মিয়া হাজির…।
(ফেলু মিয়া কাঠগড়ায় এসে দাঁড়াবে এবং নিজেই “কোনো কিছু গোপন করিবনা” বলে শপথ নেবে।)
বিবাদী উকিল – আপনি কী গাঁজার ভক্ত?
ফেলু মিয়া – কক্ষনো না, তওবা তওবা!
বিবাদী উকিল – তাহলে টুপি মাথায় দিয়ে গাঁজার দোকানে গিয়েছিলেন কেন? ধর্মাবতার, বাদী গাঁজাখোর; টুপি মাথায় দিলেও গাঁজার নেশা ছাড়তে পারেনি। তাই টুপি খুইয়ে মানিব্যাগ হারিয়ে আমার মক্কেলের নামে এই মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে।
ফেলু মিয়া – অসম্ভব, এই টুপি আমার দাদার, আমার বাপও মাথায় দিয়েছে, তাই আমি কী এই টুপির ইজ্জত নষ্ট করতে পারি। আসামী যে টুপি চুরি করেছে, সেতো সাক্ষীরাই বলেছে। কাজেই যে টুপি চুরি করতে পারে, সে মানিব্যাগও চুরি করতে পারে। টুপি চুরির ভাওতা দিয়ে, আমার মানিব্যাগ হাতিয়ে দিয়েছে। আমান সর্বস্ব হারিয়ে আজ মাগপোলা নিয়ে আমি উপোস করছি। ধর্মাবতার, আমি এর বিচার চাই।
হাকিম – কিন্তু সাক্ষ প্রমানেতো আসামীকে দোষী করা যাচ্ছে না। তাছাড়া টুপি চুরির ব্যাপারটাও সন্দেহজনক। কারণ, সাধারণভাবে মাথার টুপি কেউ চুরি করেনা, করা সম্ভব নয়। তাই আসামীকে বেকসুর খালাস দেয়া ছাড়া উপায় নেই। তবে বাদীকে এই উপদেশ দেয়া যেতে পারে যে, ভবিষ্যতে সে যেন টুপির চাইতে মানিব্যাগের দিকে বেশী খেয়াল রাখে। কোর্ট আপাততঃ মুলতবী ঘোষণা করা হলো।
(একে একে সবাই কোর্ট থেকে বেরিয়ে যাবে।)

পঞ্চম দৃশ্যঃ

(আবার সেই গলির দৃশ্য। টুপিঅলা ফেলু মিয়া ফুঁপিয়ে কাঁদছে। মিঃ টেলকম তার পিঠে হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে।)

টেলকম – কেঁদে আর কী হবে ভাই, কোর্টের বিচারই এমনই। যা হোক আমরা আপনার একটা হিল্লা অবশ্যি করবো। আপনি বালবাচ্চা নিয়ে না খেয়ে মরবেন, এটা তো হতে পারেনা।
পোশাক মিয়া – অবশ্যি, অবশ্যি। মিঃ টেলকম, আপনি যে মানবতা দেখালেন, তার কোন তুলনা হয় না।
টেলকম – কী করবো বলুন, এর জন্যেই তো এই বিদেশ বিভূঁইয়ে পড়ে আছি। মানুষের দুঃখ মোটেও দেখতে পারিনে।
ফেলু মিয়া – কিন্তু আপনি আর কত দেবেন। মামলার সমস্ত খরচ দিলেন। এমনিইতো অনেক টাকা ঋণী হয়ে গেছি।
টেলকম – তাতে কী হয়েছে, দরকার হলে আরও ঋণ দেবো। তবু আপনাকে না খেয়ে মরতে দেবো না।
পোশাক মিয়া – না, না, তা হতে দেয়া যায় না। মিঃ টেলকম, সত্যি আপনাকে যতোই দেখছি কেবলি আবাক হচ্ছি।
ফেলু মিয়া – তা আর বলতে, মনে হয় আত্মার আত্মীয়…
টেলকম – আহ্, থামুনতো আপনারা। এই নিন (গাঁজার দোকানের পাশ থেকে একটি থলে এনে ফেলু মিয়ার হাতে তুলে দিয়ে) এতে সের দশেক গম আছে। কোন প্রকারে আজকের দিনটা চালিয়ে নিন। পরদিন আবার আসবেন, আবার দেবো।
ফেলু মিয়া – (গমের থলে কাঁধে তুলে নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় এবং বলতে থাকে।)
আল্লাহ আপনাকে এর বদলা দেবে, আল্লাহ্ই এর বিচার করবেন।
(এমন পাঞ্জু বেকারও এসে প্রবেশ করে এবং সকলে হাসতে হাসতে একে অপরের সাথে হাত মেলায়।)

শেষ