কিশোর কবিতা সংকলন গোবদা সাধুর কোর্তা গোবদা সাধুর কোর্তাটি দেখতে বেশ জবরজং খুজঁলে পরে মিলবে তায় রংধনুকের সাতটি রং আসলে কোন রং তো নয় সাত কাপড়ের সাতটি তালি বাড়ছে যতো ভুড়ির বেড়, বাড়ছে ততো তালির ঢং। সাধুর মতো নয় মোটেই দেখতে গেলে তার ভুঁড়ি রোজ দুবেলা ঢালছে সে তায় পরোটা এক কুড়ি। বললে তারে, ‘বুঝলে ভাই পেটটা তোমার নয় সাধু!’ বলবে, ‘দেখো কোর্তাটা, হয় কি কোথাও এর জুড়ি?’ বললে তারে, ‘পাললে পেট, কামাই করে খাও, দাদা!’ বলবে, ‘পেলে পরেরটা কামায় নিজে কোন্ গাধা; তোমরা আমায় কও সাধু, যোগাও সবে অন্ন মোর, তাই দিয়েতো পেট ভরি, উপরি আরো পাই ছাঁদা। এর লাগিয়া দিনকে দিন বাড়ছে নিপট ভুঁড়ির ব্যাস; ভয় কী জানো? ওর মাঝে মেদ শুধু নয় জমছে গ্যাস। ঢেঁকুর তুলে বাই ছেড়ে সবটা কি আর হয় খালি, ভাবনা কখন যায় ফেটে লাগলে নিরেট কিছুর ঠ্যাস। তাইতো আমি কোর্তাটায় তালির পরে দেই তালি, রাখছি ঢেকে ভুঁড়ির বেড়, দেখলে লোকে দেয় গালি।’ বললে তারে, ‘এই বুঝি তোমার সাধু গিরির ভেখ?’ বলবে, ‘লোকে দেয়না তাই আমার মুখে চুন কালি।’
ফালতু সায়েব শ্যাওড়া তলার ফালতু সায়েব, হলেন জমিদারের নায়েব, গোফজোড়া তার ইয়া মোটা মোটা; খাজনা পাতি করেন গায়েব, কেউ যদি তার ধরলো আয়েব অমনি ছুটেন নিয়ে লাঠি সোঁটা। বলেন, ‘বেটা হারামজাদা, না হলে তোর বাপ আর দাদা এমন ছিলো নাতো কোন কালে; নাকের পরে ঘষলে রাঁদা, করতো না রা, এমনি সাদা বলতো ‘হুজুর’ কথার তালে তালে। তুই হয়ে তার ছেলের ছেলে, এমন শিক্ষা কোথায় পেলে, মানীর গায়ে মারিস কাদা ছুড়ে; একাই আমি সবটা খেলে, কখন চলে যেতাম জেলে মানতো কি কেউ আমায় রাজ্যি জুড়ে!’ সবাই শুনে বললে, ‘আহা, আরে না, না, হয় কি তাহা, ফালতু সায়েব এমন ভালো লোক; বউ মরেছে, শুনছি যাহা, আসলে তা নয়, মিথ্যে ডাহা, নইলে কি আর করেন বৌয়ের শোক। সদাই টুপি রাখেন মাথে, হাজার দানা তসবি হাতে, হজ্ব করেছেন খরচ করে টাকা; খোদার ভয়ে কাঁদেন রাতে, বাগড়া কে আর দেবে তাতে ঘর খানা তার রইলো আজো ফাঁকা।’ ছোকড়া গুলা বেজায় পাজি, বললে, ‘হলো তাই তো হাজি, বউ মারা পাপ হজেই হবে মাপ; দখিন পাড়ার গপসা কাজি, বারুই পাড়ার চিমঠে মাঝি সবাই জানে যায়না ঢাকা পাপ। ছেলেটা তার মরলো কিসে, কেউ পেয়েছে কি তার দিশে? বললে মোরা করবে সবাই রোষ; তাই যদি কই পাপের বিষে কিপটে যাঁতায় ফেলেছে পিষে অমনি হবে ছোকড়াগুলার দোষ। বউটা ছিল জবর ভালো, দেখতে কিছু হোকনা কালো দেয়া থোয়ায় হাতটা ছিলো খাসা; ফালতু সেতো কিপটে মালো, দেয়না রাতে ঘরেই আলো, এমন বৌয়ের বুঝবে কী সে চাষা। তাইতো সেবার ছেলের শোগে, ধরলো তারে বিষম রোগে বিছনা ছেড়ে উঠাই হলো দায়; অশুধ তার ছিলোনা ভোগে, করবে ভালো তাবিজ যোগে ফালতু গিয়ে ধরলো ওঝার পায়। শুনতে পেয়ে আমরা সবে, তার কাছেতে গেলাম যবে বললে, ‘তোরা বুঝিস কী বা ছাই; অশুধ খেলেই ভালো হবে, তাইলে কি আর মরতো ভবে, অশুধ কেনার পয়সা কোথায় পাই!’ সবার কথা ফেললে জলে, এর পরে কি বাক্যি চলে, আমরা ফিরে এলাম বিরস মুখে বৌ ছেলে তার মাটির তলে গেলো কিপটেপনার ফলে ফালতু সায়েব তাইতো আছে সুখে। কমলো খরচ বাঁচলো টাকা, তাতে গড়বে দেনার চাকা, মাটির তলে যাবেইযে তা নিয়ে; ঘরখানা তার থাকবে ফাঁকা, যতোই ভুরু করুক বাঁকা দেখবো মোরা দেয় কে তারে বিয়ে!
গবেষণা [সমালোচনা] অতবড়ো জন্তুটা নাম তার এইটুক, শুনে তাই খুকু সোনা হেসে উঠে খুকখুক। বলে, ‘বাবা, বলি হারি বুদ্ধিটা বুড়ো দের, কী দেখে যে নাম রাখে, দিশে নেই মুরোদের। নইলে যে হাত নেই সে কথাতো জানতো, শুঁড় আছে নাম দিয়ে তাই টেনে আনতো। মোটা মোটা পাও আর দাঁত দুটি মুলা যার, বড়ো সড়ো দেহ আর কান দুটি কুলা যার; তার নাম খেলা নয়, বুঝে হবে রাখতে, শব্দের ঠেকা কি অভিধান থাকতে। [প্রস্তাব] শুঁড় দেখে নাম তার রাখা যায় শুন্ডুল;* ছোটো হোক হস্তীর মতো নয় ভন্ডুল। পাও দেখে নাম তার রাখা যায় স্তম্ভ; (বুদ্ধিটা খেলে ভালো, করি নেকো দম্ভ।) কান দেখে শূর্প ও দাঁত দেখে কন্দ, দেহ দেখে পর্বত তবে মিলে ছন্দ। তারপর করে সব এক সাথে সৃষ্ট দরকার হলে করো শিলনোড়া পিষ্ট। মিলে মিশে হবে নাম জন্তুর যুক্ত ‘মদ-শূর-ভন্ডুল-পরব্ত-শুক্ত’। [*পাদটিকা ] শুন্ডের সাথে যোগ করে উল প্রত্যয় শুন্ডল হবে নাকি ব্যাকরণ ব্যত্যয়; এই মতো অভিমত করেছেন ব্যক্ত নিধিরাম পন্ডিত। হয়ে যাই ত্যক্ত, তাই হলে যেতে হয় ব্যাকরণ শিখতে তারপর যেতে হয় গবেষণা লিখতে! এই করে গোল্লায় গেলো পুরো দেশটা, গবেষণা করবার নেই কারো চেষ্টা। কেউ যদি করে তাকে করে দিতে পন্ড এক পায়ে ছুটে সবে উঁচু করি দন্ড।
করুণা বেচারাম দেউড়ি, ভোরে হয়ে খেউড়ি একটিন মুড়ি দেন ছড়ায়ে; শালিক আর কাকরা পায় তাতে বখরা। নিজে এক ঘটি জল গড়ায়ে পাখিদের তুষ্টি হলে দুই মুষ্টি মুড়ি খান খুব করে চিবিয়ে; তারপর ঢকঢক ঘটি করে ভকভক জল ঢেলে দেন ক্ষুধা নিবিয়ে। চান করে নদীতে চলে যান গদীতে পথে তার দেরী হয় কিছুটা, মাছ কিনে ছাড়াতে পিপড়ে না মাড়াতে বারবার দেখে পার নীচুটা। মানুষ কী নষ্ট দেয় জীবে কষ্ট ভেবে তার মনে হয় দুঃখ; তাই দেখে নিকারী ঘুঘু বক শিকারী মেজাজটা হয়ে যায় রুক্ষ। ঠেস দিয়ে তাকিয়ে বসে যান জাঁকিয়ে নিয়ে রোকড়ের খাতাপত্র; মনে তার আছে ভাব এই বার হলে লাভ খুলবেন এক দান সত্র। দেশে অনাবৃষ্টি জ্বলে গেলো সৃষ্টি, খাদ্যের দাম তাই বাড়ছে; দিনকাল মন্দা রোজ ভোর সন্ধ্যা ভিক্ষুক দ্বারে হাঁক ছাড়ছে। বেচারাম গুদামে রেখেছেন সু দামে ধান চাল কিনে লাখ বস্তা; দেখা যায় শুভচিন যাক আরো কিছুদিন দরদাম এখনো তো সস্তা। এরপর বন্যা কেঁদে মেঘ কন্যা দেশটারে করে দিলো গর্ত; চারদিকে হাহাকার ভেসে গেলো ঘর দ্বার এক হলো আকাশ আর মর্ত্য। এক মুঠি খাদ্য পায় কার সাধ্য নাহি দিলে এক মুঠি তংকা; সব ঘরে তাও নাই আছে শুধু খাই খাই রাত দিন মরণের শংকা। পায় যদি অন্ন হয়ে মতিছন্ন গাঁও ছেড়ে লোক যায় শহরে; ‘দাও দুষ্টি ফেনভাত’ কাতরায় দিনরাত মেটে নাকো ক্ষুধা আট পহরে। লঙ্গড় খানাতে দুটি ক্ষুদ দানাতে কয়জন পাবে আর রক্ষা; কিছুপানি চাল ডাল তার চেয়ে লাথি গাল বেশী খায়, শেষে পায় অক্কা। দেশ যবে মর মর বেচারাম পেয়ে দর রাতে রাতে করে দেন বিক্রি; ধান চাল কোথা যায় তাতে তার নাহি দায় যথা লাভ তথা তার ডিক্রি। নেই কোনো শংকা লাভে মূলে তংকা কতো হলো, গোনা তার কর্ম; জীবে দয়া করলে গতি হবে হবে মরলে জীবে দয়া তাই তার ধর্ম। এই ঘোরে আকালে আজো তাই সকালে চাল মুড়ি দেন তিনি ছড়ায়ে; ঘুরে দেখে পাড়াটা মাছ কিনে ছাড়াটা হয় নাকো, বেলা যায় গড়ায়ে বসে থেকে বাড়ীতে; কভু যান গাড়ীতে পথে ঘাটে চোখ করি অন্ধ। চার দিকে হাহাকার নেই কাজ কারবার রেখেছেন গদী তাই বন্ধ।
অতুলন ঘরের দাওয়ায় একটা পোষা বাজ পাখী থাকতো বসে, আপন মনে খুঁটতো গা; মোরগ বুড়া দেখতো তারে দূর থাকি, বললো সে দিন, ‘শুনছো ওগো বাজের ছা, তোমার মতো নবাব কোথাও নেই নাকি, মান যাবে কি আমার সাথে করলে রা?’ তাইনা শুনে উঠলো রেগে বাজের পো, বললে, ‘ওরে নিমক হারাম, বলিস কি? তোর সাথে মুই বলবো কথা, ওয়াক থু, মুখের দিকে যায়না চাওয়া বালাই ছি!’ বললে মোরগ, ‘মেজাজ কারে দেখাস তু, মোরগ কারো ধার ধারে না শুনিস নি? মুচকি হেসে বাজ তারে কয়, ‘হায় কপাল, পরের ঘরে থাকিস তবু বলিস এই!’ মোরগ বলে, ‘মিছাই ঝারিস মুখের ঝাল তুইও থাকিস পারের ঘরে, সন্দে নেই।’ বাজ বলে, ‘দুর, বলছি ভালো বুঝলি গাল।’ মোরগ বলে, ‘বৃথাই হারাস কথার খেই।’ এই না শুনে বললে রেগে বাজের পুত, ‘বলছি যা মুই একটি কথাও মিথ্যে নয়; মালিক এতো খাওয়ায় তবু পায়না জুত, ধরতে গেলেই দৌড়ে পালাস, কিসের ভয়? পরের খেয়ে হামবড়া তোর জাতের খুঁত, বলবি তবু মিছাই বাজে নিন্দে কয়।’ ‘দেখতো আমায় ছিলাম কোথায় জঙ্গলে মালিক এনে আদর করে পাললে, তাই ডাকলে পরে উড়াল দিয়ে যাই চলে, হাতের কাছে দিই ধরা, তায় নেই কামাই।’ মোরগ বলে, ‘হয়তো তা ঠিক, তাই বলে জানিস কী তুই, কিসের তরে মুই পালাই?’ ‘জীবন ভরে দেখলি নেতো কোথাও বাজ, তোদের কারো গোশ্ত দিয়ে রাঁধতে ঝোল; দেখলে পারে ধরতিরে তুই মোদের সাজ, ডাকলে তোরেও পালাতি, তায় নেই যে ভুল। তুই আর মালিক শিকার করা তোদের কাজ, শিকার যে হয়, তার সাথে নেই তোদের তুল।’
হুক্কাহুয়া দুপুর বেলা সবার চোখে লাগছে যখন ঘুমের ছোঁয়া, ঠিক তখনি শিয়াল বুড়ো উঠল ডেকে হুক্কা হুয়া। বললে সবাই, ‘ব্যাপার কিহে, ডাকছো ডেকে এই অবেলা? ঘরের বুড়ী মারলো কি ভাই কনুই দিয়ে বিষম ঠেলা?’ বললে শিয়াল, ‘ঠাট্টা রাখো, ডাকছি কি আর অমনি সাধে, দুদিন ধরে পাইনি কিছু বাচ্চা বুড়ী ক্ষিধেয় কাঁদে। মোড়ল বাড়ীর কুকুর গুলা এমনি পাজি, বলবো কি আর, ওদের হাঁকে ওই পাড়াতে যাওয়াই হলো ভীষন ব্যাপার। মোড়গ গুলাও সুযোগ বুঝে ঠ্যাং দেখিয়ে করছে খাতির, শিয়াল খেলে জাত যাবে, তাই লোকমা হবে মানুষ জাতির। ছোকড়াগুলাও দেদার চেঁচায়, ‘ওইযে শেয়াল, ওইযে শোয়াল!’ তোরাতো খাস রাজ্যি গিলে শিয়াল কি তা করছে খেয়াল? একটি মোরগ, ছাগল ছানা এইতো মোরা করছি দাবী, নাই দিলি তা, চেঁচাস কেনো, না হয় তোরা নিজেই খাবি! খোদার দেয়া এই দুনিয়া খুব চুটিয়ে করলি রে ভোগ তোদের সাথে জাত গোলাম ঐ কুকুর গুলাও দিচ্ছে যে যোগ; তাই দেখে তো কলেজ ফাটে, এমনি হলো পশুর পতন! সব খেকো ঐ মানুষ গুলার এমন করে করছে যতন। এইনা শুনে বললে কেহ, ‘নাই বা গেলে ওই পাড়াতে, বিদ্ঘুটে ঐ মানুষ পালা মোরগ গুলার দাও মারাতে। বিলের ধারে মাছ আছে আর কাঁকড়া শামুক দেদার মিলে, তাই দিয়ে পেট না হয় তুমি এই কটা দিন ভরেই নিলে। তারপারে তো মড়ক আছে মরবে মোরগ, মরবে গরু; কুকুর শকুন খেলেও তাতে পালতে পাবে বাচ্চা জরু।’ বললে শুনে শিয়াল বুড়ো, তুইতো দেখি আস্ত হাঁদা! বুঝবি কিসে ভোজের বাড়ীর পাত চাটা তোর নিত্যি সাধা। বিলের ধারে মানুষ গুলা বাঁধ দিয়েছে মাছের লাগি, আলোও জ্বেলে বাঁধের পারে সমস্ত রাত থাকছে জাগি। তাই তো সেদিন চুপটি করে ছিলেম বসে বাধেঁর পাশে, মিলতে পারে একটি মাছও নিদেন কাঁকড়া, তারই আশে। হায়রে কোথা মাছ পাবো আর কাঁকড়া খাবো, তার বদলে একসেরী এক ঢেলার চোটে ঝাঁপ দিলেম ঐ বিলের জলে। অনেক করে সাঁতরে শেষে জানটা নিয়ে এলাম ফিওে; আর কিওে যাই বাঁধের কাছে বৌ দিয়েছে মাথার কিরে। মরবে কবে মোরগ গরু, সেই আশতে বাঁধবো পাথর, এই করে কি দিন চলে আর দুদিন ধরে ক্ষিধেয় কাতর! বাচ্চা বুড়ী মরবে, শেষে মরবো নিজেও পেটের জ্বালায়, এর লাগিতো শুনছি এখন বাচ্চা রেখে শিয়াল পালায়। বাপ দাদারা ভালোই গেছে, মিলতো তখন অল্প বেশী, দুদিন ধরে অমন করে খিঁচতো নাতো পেটের পেশী। তখন এমন হন্যে হয়ে সব খেতো না মানুষ গুলো, খুব সহজেই দেওয়া যেতো কুকুর গুলোর চক্ষে ধূলো। ক্রমেই যতো যাচ্ছে রে দিন বাড়ছে ক্ষিধে, ছল-চাতুরি, লুটছে সবাই ইচ্ছামতো চুরির পরে করছে চুরি। তাই হলো আজ শিয়াল বোকা দেখছে চোখে সকল ভুয়া, দিন দুপুরে ডাকছে রে তাই হুক্কা হুয়া, হুক্কা হুয়া।
গাধা ঘোড়ার নাতি একটা হাতি বললে যখন এক গাধাকে ‘তোমার দেহ দেখলে কেহ করবে স্মরণ মোর দাদা কে। বললে গাধা, ‘তোমার দাদা এমন করে বলতো যদি, তাইলে কি আর থাকতো গো তার পিঠের পারে জিনের গদি। তোমরা ছেলে নতুন কেলে মানছো না তাই দাদার প্রথা; আমার কানে কিসের টানে বলছো রে ভাই এমন কথা? এ মুখ পোড়া বিশ্ব জোড়া নাম কিনেছে তার লোভে কি? তাইলে মোরে দাদার জোরে যেই চিনেছে, তার শোভে কি?’ বললে হাতি ঘোড়ার নাতি, আর কিছু নয়, কান দুটি তার তোমার মতো ভাবছি যতো মোর মনে হয় এমনি আকার। হাসলে গাধা, বললে,‘হাঁদা, কান দিয়ে কি বিচার চলে! বিরাট কায়া করলে ভায়া তাই গিয়ে কি হাতির দলে?’
মাছরাঙা নদীটার পাড় যেথা ভাঙা পুকুরে ধারে যেথা ডাঙা, সেই খানে ঝোপে ঝাড়ে বসে থাকে চুপি সারে তোমরা দেখেছো তারে নাম? তাও জানো ঃ মাছরাঙা। দেখে তারে মনে মনে ভাবলে, জ্যান্ত কি মরা, নেই সাড়া তো? একটু দাঁড়াও দুরে আগলে, চুপ কওে, নেই কোন তাড়াতো? দেখছো কি? বসে আছে চুপচাপ মাখছেনা গায়ে কোন রোদ তাপ; চোখ দুটি একঠাঁয় পানি যেথা বয়ে যায়, কি জানি কিসের দায় আচমকা টুপ করে দিলো ঝাঁপ। ঝুপ করে হলো একশব্দ দেখতে না দেখতেই এলো ফের, ঠোটে তার মাছ; তুমি স্তব্ধ দেখে তার খেলা এক পলকের। খেলা নয়, দেখলে যা আজ তার ঝোপ বুঝে কোপ মারা কাজ তার; খেয়ে দেয়ে আছে সুখে গায় পাখা ঠোঁট মুখে মাছের স্বপন চোখে আহা মরি শিকারীর সাজ তার! মাছ খেয়ে বেড়ে গেছে চেকনাই পাখা আর ঠোঁট হলো রাঙা, সবে মিলে নাম বুঝি দিলো তাই মাছ খেকো নয়, মাছরাঙা!
অযাচিত অনেক দূরে এক দেশে এক জঙ্গলে সেবার এলো শীত, পড়লো ঝরে গাছের পাতা গাছ তলে থামলো পাখীর গীত। সেথায় ছিলো বাঁদর ছিলো না তার চাদর, কোথায় পাবে ঘরের কোনে লেপের তলার আদর! এমনি খালি হাতে ঘুরছিলো সে রাতে। বইছে তখন হিমেল হাওয়া কনকনে কাঁপছে চারিধার ভাবছে বনের পশু পাখী নিজমনে উপায় নাহি আর। শীতের চোটে কাতর ঠক্ঠকে সেই বাঁদর দেখতে পেলো পথের ধারে চকচকে এক পাথর। আগুন ভেবে তাতে করলো জড়ো হাতে গাছের ঝরা শুকনো পাতা কয় মুঠো, লাগালো তায় ফুঁক, ফুঁয়ের চোটে হয় বুঝি তার পেট ফুটো যায় বা ফেটে মুখ। মোরগ ছিলো দূরে ঝোপের অন্তঃপুরে বাঁদর ভায়ার ব্যাপার দেখে মুন্ডু গেলো ঘুরে। ভাবলে বোকা, হায় চকচকে যা পায় তারেই ভাবে আগুন, আহা এর তরে করতে কিছু হয় - এইনা ভেবে বললে, ‘মিছাই, শোন ওরে করিস দেহ ক্ষয়। পাথর পাতায় জুড়ে দিলেই কি আর পুড়ে? হবার যা নয় তার লাগি তুই মরিস মাথা খুঁড়ে!’ বাঁদর শুনেও তায় মাখলে নাকো গায়। ভাবলে মোরগ শুনতে পেলে করতো রা, পায়নি বুঝি তাই পুণ্য কাজে কষ্ট কী আর তুলতে গা আমি নিজেই যাই। মোরগ ভেবে এই কাছে গেলো যেই, বললে বাঁদর, ‘কিসের তরে নাচিস রে ধেই ধেই?’ মোরগ বলে, ‘হায় বোঝান তরে দায়! বাঁদর বলে, ‘আহারে মোর বুদ্ধিমান বোঝানো তোর রাখ।’ এই না বলে জাপটে ধরে মুন্ডু খান করেই দিলো ফাঁক।
কাঁথা অনেক বছর আগে পৌষে কিবা মাঘে ঠিক মনে নেই- শীতের চোটে করলে চুরি কাঁথা একটা বুড়ো বাঘে। গায় দিয়ে সে কাঁথা করলে দেহ তাতা, তারপরে সে আরাম করে ফিরলে গুহার দিকে দোলদুলিয়ে মাথা। বাঘের বুড়ী দেখে ভাবছে ওমা, একে? দেখতে যেন বাঘের মতো গায়ে আবার কীযে রং এসেছে মেখে। দুলছে মাথা কোনো ভালুই হবে যেনো; পালাই তবে দেখলে পারে করবে বিষম তাড়া নাইতো মাতাল হেনো। বাঘ দেখে তার বুড়ী পালায় গুড়িগুড়ি; বললে ডেকে, ‘ও বুড়ী তুই যাস পালিয়ে কোথা আঁধার করে পুরী?’ শুনলে বুড়ী তাহা, বললে ফিরে, ‘আহা, ঢং দেখে আর বাঁচিনে গো, শেষ কালে তুই বুড়ো ভয় দেখালি ডাহা! গায় দিলি কী ওটা, দেখতে তো বেশ মোটা! বাষ বলে, তা বলছি পরে আগুন ধরাবি তো শুকনো পাতা জোটা। বসলে আলাও কওে হুঁকায় তামুক ভরে, বললে, ‘বুড়ী! শীতের দিনে এই গায়ে না দিলে মানুষ যেতো মরে। বললে বুড়ী হেসে খুকখুকিয়ে কেশে, ‘বাঘও বুঝি মরতো এবার যদিই না সে চুরি করতো তাহা শেষে!’ এই না শুনে বাঘে উঠলো কেঁপে রাগে, বললে, ‘বলিস এমন কথা দিলেম তবে ফেঁকে দেখি কী শীত লাগে! এই না বলে কাঁথা ফেললো করে যাতা, আগুন রেগে পুড়লো, তাতে বাঘবুড়া ও বুড়ীর গা হলো খুব তাতা।
দুষ্টুমি মায়ের কাছে এক যে আছে দুষ্টু খোকা নয় সে বোকা, দুষ্টুমিটা এমনি মিঠা বলবো কী আর! গল্পটি তার শুনলে তুমি মুখটি চুমি বলবে খেঁচে থাকসে বেঁচে দুষ্টুমিতে সবার চিতে। রাতের শেষে ঘুমের দেশে সূয্যি যখন দেখছে স্বপন তখন খোকা সে এক রোখা উঠবে জেগে বলবে রেগে, খুলবে না দোর, হয়নি কি ভোর? তখন তারে সবাই হারে বললে কিছু ডাকলে পিছু শুনবে সে, বসবে পাশে বলবে, মাগো তোমরা জাগো, সবাই কেনো আলসে হেনো! এই দেখোনা যাচ্ছে শোনা কাকের কাকা লাগছে ফাঁকা আঁধারটা যে, কয়টা বাজে? দেখবে ঘড়ি আনবে ছড়ি খুলতে যাবে এমনি ভাবে দরজাটাকে - বলবো কাকে, দেখতে খাসা যায়না হাসা; হাসলে কেঁদে মাথায় বেঁধে তুলবে টেনে, সেটুক জেনে থাকছি শুয়ে। সে একগুঁয়ে করছে তখন অনেক যতন ছড়ির আগায় খুলতে সে চায় ছিটকিনি টা, এমনি চিটা যায় না খোলা খাচ্ছে দোলা হাত দুটি তার মজার ব্যাপার! দেখছি, শেষে ফেলছি হেসে এমনি খোকা সে এক রোখা উঠলো রেগে ছুটলো বেগে আনলো ধরে আনেক করে চেয়ার টাকে দ্বারের ফাঁকে। তারপরে সে মুচকি হেসে দরজা বেয়ে উঠলো যেয়ে চেয়ার টাতে ধরলো হাতে ছিটকিনিটা, দুষ্টুমিটা বলবো কী তার, খুললো সে দ্বার। তাইতো খোকা ফুলের থোকা উঠলো হেসে, এক নিমেষে তার সে হাসি আলোর রাশি পুব আকাশে, ছড়ায় ঘাসে। ঘরের মাঝে আর কি সাজে আমায় শোয়া, লাগছে ছোঁয়া দুই চোখে মোর - রাত হলো ভোর।
ব্যাঙের সর্দি আষাঢ়ে মেঘের নতুন পানিতে কসরত করে ঠ্যাঙের সর্দি লেগেছে ব্যাঙের। চুপ করে বসে কাটায়েছে পুরা শীতকাল বাইরে যায়নি, বুঝেনি দেশের হালচাল। ফাগুন চৈতে আগুনে হাওয়ার হলকা, বৈশাখে জেঠে মাটিরে করেছে বলকা। কখনো ছুটেছে মাতাল ধুলির ঝরনা, এলো মেলো করে দিয়ে গেছে ঘর-করনা। তবুতো টলেনি নিঁদালু ব্যাঙের ঘাপটি, দুটি চোখ বুজে রয়েছে সে মাটি সাপটি। তার পরে যেই আষাঢ়ে মেঘের গুরগুর আকাশ বাতাশ কাঁপায়ে তুলেছে ভীমসুর। হাটে ঘাটে মাঠে নুপূর বেজেছে রিমঝিম, তরল পরশে ধরনী হয়েছে হিমহিম। অমনি টুটেছে ব্যাঙের দুচোখে চটকা, খুশিতে দু’গাল ফুলায়ে হয়েছে মটকা। নতুন পানির আসরে জমেছে গাওনা, এমন সময় সর্দি কি ছিলো পাওনা! সর্দি লেগেছে ব্যাঙের বারবার তাই তাল কেটে যায় রাগিনী গ্যাঙর গ্যাঙের। তবলার বোল তাধিন তাধিন ধিনতা, ব্যাঙোনীর গালে ফুটেনা, হয়েছে চিন্তা। কেমনে সর্দি দূর করা যায় তাইতো, ডাক্তার ছাড়া আর কোনো পথ নাইতো। শেষে লেজ নেড়ে এলো এক চ্যাঙ ডাক্তার, বললে, ‘পয়লা উঁচু করে দাও নাক তার। চ্যাপ্টা নাকের সর্দিতো বের হয় না গলায় চেপেছে, সুর তাই কথা কয়না।’ কচুর ডাঁটায় লাগিয়ে বিষম ঠেকনা, উঁচু হলো নাক। ঔষধ, তাও এক না। মাথায় দিয়েছে সবুজ শ্যাওলা পট্টি, গলায় দড়িতে পড়া গেরো একষট্টি। বুকেতে মালিশ ফেনা আর খাবে নোনতা, তা হলে বুঝবে অশুধের কীযে গুণ, তা। এর পওে যদি উবু হয়ে থাকো দেড় দিন, তাইলে রবেনা দেহে সর্দির কোনো চিন। উঁচু করে নাক উবু হয়ে থেকে ঔষধ খেয়ে চ্যাঙের সর্দি সেরেছে ব্যাঙের।
জোনাকী রাতের বেলা আকাশটাতে অনেক গুলি তারা কী যেনো কী খুঁজে বেড়ায় হয়ে পাগল পারা। মিটমিটিয়ে পিটপিটিয়ে রগড়ে নিয়ে চোখ, যতোই খুঁজে ততোই বাড়ে খোঁজে দেখার রোখ। এটুক লিখে ভাবছি যখন, হঠাৎ খোকন এসে, আমার ক’লাইন পদ্য পড়ে উঠলো বেজায় হেসে। বললো, বাবা, এই লিখেছো, তাও জানো নাকি? আসলে ওরা তারাতো নয়,ওরাও জোনাকী। অনেক দূরে আকাশ টাতে বিরাট গহীন বন, গাছের পরে গাছ সেখানে নেইকো মানুষ জন। পশুও নেই পাখীও নেই, দেও পরীদের বাস, বড়োই সুখে সেথায় তারা কাটায় বারোমাস। কইনু হেসে, গল্প তোমার কোথাও শোনা কি? নইলে কোথায় দেও পরী আর কোথায় জোনাকী! বললে রেগে, ‘শোনেই না ছাই, বলবে আবার কে, তোমাদের ঐ গল্পতো সব ‘গাঙ শালিকের বে’।’ তারপরে সেই গহীন বনে নেই কো দিবস রাত, চাঁদ সুরুজও করে নাকো সেথায় আলোক পাত। ঘুটঘুটে সেই আঁধার মাঝে জোনাকীদের মেলা, তার আলোতে দেও পরীরা খেলে মজার খেলা। খাওয়া পরার ভাবনা তো নেই, নেই কো ঘুমের টান, সবাই সেথায় নেচে বেড়ায় সবাই গাহে গান। চাঁদের চেয়ে আগে সেথায় তাইতো যাওয়া চাই, সেথায় যাবার গড়বো রকেট পয়সা যদি পাই।
মোমবাতি বাদশা দিলেন হাজার টাকা খাজারে, কী সব নাকি আনতে যাবে বাজারে। লোকটা ছিলো বেজায় চটা ফেললো ছিঁড়ে শূণ্য ক’টা, বললো রেগে, ‘খেয়েছে কী গাঁজারে! নইরে কি দ্যায় এক টাকা এক হাজারে। এক টাকা তে কিনলো সে মোমবাতি, ভাবলো, এতে চলবে গোটা দিনরাতি। আলোর চেয়ে আর কী ভালো, এইনা হলে সবতো কালো। তাই ভেবে সে খুব ফুলিয়ে নিজে ছাতি, বাজার থেকে র্ফিরলো চড়ে শ্বেত হাতি। বাদশা বলেন, ‘ব্যাপার কি হে সওদা কই? দেখছিনেতো কিছুই হাতির হওদা বই।’ বললে খাজা, ‘এই তো হাতে, আর কী পাবো এক টাকাতে; কিনেছি এই মোমবাতি। মুই আর যা হই, সবার মতো নিসটে বোকা মোটেও নেই। বাদশা বলেন, ‘দিলেন টাকা এক হাজার একটাকাতে করবি কেনো এই বাজার! নয়শ নিরানব্বই বাকী অমনি হবে মিথ্যে ফাঁকি, করলি কী তা, দম দিয়েছিস কোন গাঁজার? এই না বলে সাপটে ধরেন ঘাড় খাজার। চেঁচায় খাজা, ‘দোহাই হুজুর, মিথ্যে নয়; মটকে আবে ঘাড়টা বেজায় করছি ভয়। ডাকুন দেখি মুনশীজিকে আঁকটা দিলো সেই তো লিখে এক ছাড়া আর শূণ্য সবই, তাইতো হয়; শূণ্য গুলির নেই যে মূল্য সবাই কয়। বাদশা বলেন, ‘এহ বুঝি তোর আঁক শেখা, শূণ্য কবে পৃথক করে হয় লেখা? একের পিঠে শূণ্য দিলে তবেই তোরে হিসাব মিলে। শূণ্য কোনো সংখ্যাতো নয়, এক রেখা। মগজ তোর গোবর কতো যাক দেখা।’ এই না বলে বাদশা দিলেন এক ধমক, দূর হলো তায় খাজার যতো জাঁক জমক। মাথায় পোড়া গোবর নিয়ে আন্ধা গোরে ঢুকলো গিয়ে, বাদশা গেলেন শুনতে খেয়াল সুর গমক, অমনি মাথায় একটা কথা দেয় চমক। বলেন ডেকে খাজাঞ্চীকে, ‘ঠিক কি তাই, চায়নি খাজা হাজার টাকা তোমার ঠাঁই? খাজাঞ্চী কয়, ‘হায়রে কপাল, কোথায় পাবো খাজার নাগাল, কর্জ নিলে একটাকা, তায় দেখাই নাই হাজারতো দূর আর তারে দিই একটা পাই। বাদশা বলেন, ‘এই সেরেছে, হায় বোকা দিয়েছিলাম হাজার টাকার এক রোকা দেয়নি সে তা তোমার কাছে তাইলে সে তার সাথেই আছে, তাই তো এক আর শূণ্য নিয়ে এক রোখা গোল পাকালে, আমায় দিলে এই ধোকা।’ বাদশা বসে খাজার গোরের পাশটাতে দিলেন জ্বেলে মোমবাতিটা নিজ হাতে, বলেন, ছিলো লোকটা ভালো তার গোরেতে জ্বলুক আলো।’ দিলেন রেখে হাজার টাকা এই খাতে মোমবাতি তাই জ্বলছে গোরে দিনরাতে।
খোকার আব্দার আমায় রেখোনা, মাগো, বন্ধ করে এ ঘরের মাঝে, আমিতো হয়েছি বড়ো, আমার কি আর থাকা সাজে ঘরের কোনেতে শুধু! তোমার আঁচল ধরে ধরে কেবল খেলানো এই এতোটুকু উঠোনের পরে। আমায় দাওনা যেতে ওই দূরে মাঠের সবুজে, সেখানে বলদ গুলো হাল টানে চোখ বুজে বুজে। বাবাতো পাজন হাতে পিছু থেকে ওদেরে শাসায়, তবুও ছুটেনা ওরা; বলোনা মা, কিসের আশায় ছুটবে! ওদের মুখে বাধাঁ আছে মোটা মোটা দড়ি, ঘাসতো পায় না খেতে পিঠে পড়ে গুতো আর ছড়ি। বাবারে বলোনা মাগো, ওদের জোয়াল খুলে দিক্, সবুজ ধানের ক্ষেতে ওরাও কিছুটা খেয়ে নিক। না হয় খোরাকী কিছু কম হবে, তাতে কীবা দোষ, না হয় দুয়েক দিন আমারও করবো উপোস! বাবাতো আমার কথা শুনে না মা, শুধু ধমকায় তোমাকেও ধরে মারে, বুঝিনাতো বাবা কীযে চায়! ধরোনা, আমায় যদি কেউ নিয়ে জোয়ালেতে জুতে, মুখে দড়ি বেঁধে রাখে, কেবলি শাসায় খেতে শুতে। তাহলেও বাবা বুঝি মুখ বুজে সয়ে যাবে সব; তুমিও কাঁদবে শুধু, বলবে এ খোদার গজব? তা যদি না হয়, মাগো, দাও না আমায় যেতে আজ, হাতে দাও হাতিয়ার, গায়েতে পরাও বীরসাজ। জোয়ালের যতো দড়ি, কেটে দেবো সব গুলি তার, গরুগুলি ছাড়া পাবে খুশি মনে ঘুরে বেড়াবার। বাবা যদি রাগ করে, লাঠি নিয়ে আসে খুব তেড়ে, তুমি মা দিওনা বাধা দূর থেকে হাত নেড়ে নেড়ে। আমিও গরুর সাথে দেবো ছুট সারা মাঠভর, বাবা কি পারবে ছুঁতে নিয়ে তার বাতের কোমর! ছুটে ছুটে শেষটায় বেড়ে যাবে বুকের হাঁপানি, বলবে তোমায় এসে, ‘দাও দিকি এক গ্লাস পানি।’
ভূতের ছা দুপুর বেলা ভুতের ঢেলা পড়লো গায়ে আচমকা, অমনি সটান ঘাবড়ে গিয়ে দৌড়ে পালান আদম খাঁ। বললে সবাই, ‘ও খাঁ সায়েব! পালান কোথা, ব্যাপার কি?’ বলেন, ‘ওরে ভুতের ঢেলা, পালাও রেখে ইয়ারকি!’ সবাই পালায়, ঠিক দুপুরে ভূতের ঢেলা বাপরে বাপ! ভয়ের চোটে হোতকা মোটার উঠলো বেড়ে রক্তচাপ। পটকা পিলের হালকা দেহে বাড়লো জোরে হাঁপির টান। ছুটলো সবাই সেই দিকেতে, যেথায় গেলেন আদম খান। পালায় বুড়া পালায় বুড়ী জোয়ান ছুঁড়ী মায় ছারে, ভূতের ভয়ে কাতর হয়ে রইলোনা কেউ দেশ গাঁয়ে। মা বাপ হারা কয়টি ছেলে ঘাঁটতে ছিলো আস্তাকুঁড়, ওরাই শুধু জানলো না এই ভূতের ভয়ের ঘটার তোড়। আস্তা কুঁড়ের আস্ত পচা খাবার খেয়ে পেট ভরে ফিরছে যখন পথের পাশে চাটায় ঘেরা নিজ ঘরে দেখলো পথে আগের মতো ছুটছে নাতো আর গাড়ী, করছে খাঁ খাঁ দিন দুপুরে দালান কোঠা সব বাড়ী। ঋাবলে ওরা, ভর দুপুরে কোথায় গেলো লোক গুলা, হয়তো কোথাও দাওয়াত আছে, সন্দেহ নেই এক তোলা। এই না ভেবে পাড়ায় পাড়ায় ওরাই শুধু বাড়ায় পা, জানিনে ভাই, মানুষ ওরা কিংবা ওরাই ভূতের ছা।
হাড়গিলা সায়ের সেজে হাড় গিলা গায় লাগিয়ে সুট ঢিলা টাই উড়িয়ে হাওয়াতে জুটলো এসে দাওয়াতে। রাঁধতে বসে শিয়ালনী ফেলছে পুড়ে বিরিয়ানী ছুটছে বিকট গন্ধ তার, চার দিকেতে অন্ধকার। চশমা এঁটে নাক দুটোয় আগুন জ্বেলে কাঠ কুটোয় শিয়াল দেখে সব ফাঁকা, বৃথাই গেলো ত্রিশ টাকা! শুনতে পেয়ে হায়জারি হাড় গিলা কয় ডাক ছাড়ি, ও ভাই শিয়াল চিন্তা কি; একাই যাবো মান রাখি। খেলাম কতো হাড় গিলে বিরিয়ানী তো খুব ঢিলে, সুরুৎ সুরুৎ টান মেরে এই তো দিলাম সব সেরে। সবটা একা সাবড়িয়ে হাড়গিলা যায় ঘাবড়িয়ে, পেট ফুলে তার আস্ত ঢোল বাধলো বিষম গন্ড গোল।
পুতুলের বিয়ে গোলগাল পুতুলের তুলতুলে গাল, কেনো জানি হয়ে গেছে টুকটুকে লাল। ভাবনায় শান্তির চোখে নেই ঘুম, বারবার দেখে আর গালে খায় চুম। শ্যামলের ছেলেটার বিয়ে গেলো কাল, সেখানে পুতুল গিয়ে খেয়েছে কি কাল? সারাদিন হৈ চৈ গেছে ধুম ধাম, মনে কারো পড়ে নাই পুতুলের নাম। কাজলের মেয়েটার মূখে বড়ো ঝাল, সেই কি দিয়েছে তবে পুতুলের গাল? তাই শুনে মাথা বুঝি করে ঝিম ঝিম, হাত পাও হয়ে গেছে এতো হিম হিম! পুতুলের পাশে বসে পুষি খায় চাল, শান্তি যে রাঁধে নাই আজ চাল ডাল। সব শুনে পুষি তাই হাসে ফিক ফিক, বলে এর কোনোটাই নয় বুঝি ঠিক! আসলে যে পুতুলের বিয়ে হবে কাল, লজ্জায় গাল তাই হয়ে গেছে লাল। তাই শুনে শান্তিও কুঁচকিয়ে নাক বলে, ‘আমি বুঝেছিরে, বলিস নে, থাক। শুনে তাই ডালুটাও দেয় তিন ফাল, আহলাদে পড়ে তার জিভ দিয়ে নাল। পুষিটাও জিভ দিয়ে করে চুক চুক, সব কিছু বুঝে ওরা, নয় উজবুক।
দেখলে খুঁজে অনেক কিছু মিলে! সকাল বেল সূয্যি যখন উঠে বইতে থাকে মন্দ মধুর হাওয়া, মুচকি হেসে ফুল কলিরা ফুটে অমনি জুড়ে পাখীরা গান গাওয়া। ঠিক তখনি দেখলে চেয়ে দূরে কী যেনো হয় মনের অন্তঃপুরে! মেঘেরা সব ঘুমিয়ে যখন থাকে দূরের আকাশটাতে হেলান দিয়ে, গাছেরা সব গায়েতে রোদ মাখে, খেলায় বায়ু পাতার আঁচল নিয়ে! ঠিক তকনি আকাশের ঐ নীলে দেখলে খুঁজে অনেক কিছু মিলে! আবার যখন মেঘেরা সব জেগে করতে থাকে বেজায় হুড়ো হুড়ি, ঝিলিক দেয়া গরজে উঠে রেগে পড়তে থাকে বৃষ্টি গুড়ি গুড়ি। ঠিক তখনি মেঘের ফাঁকে ফাঁকে অনেক কিছু লুকিয়ে বুঝি থাকে। সাঁজের বেলা সূয্যি যখন ডুবে টিপের মতো উঠে সন্ধ্যা তারা, কালির মতো কালো ঘনায় পুবে পশ্চিমেতে মিলায় আলোর ধারা। ঠিক তখনি দেখলে আকাশটাতে কিসের ছোঁয়া লাগে নয়ন পাতে। রাতে য়খন ছড়ায় চাঁদের হাসি লতায় পাতায় মধুর মায়া ঝলে, দূরে কোথাও বাজতে থাকে বাঁশি কারা যেনো বেড়ায় হাওয়ার ছলে। ঠিক তখনি দেখলে বসে একা অনেক কিছু যায় বুঝিবা দেখা! আঁধার রাতে যখন তারার আলো ঝিকমিকিয়ে জ্বলতে থাকে দূরে, ঘুমায় ধরা চাদর মুড়ে কালো ঝিল্লি পোকার ঘুম পাড়ানী সুরে। ঠিক তখনি দেখলে দুচোখ মেলে মনের মাঝে অনেক কিছু খেলে ।
কৈফিয়ত কৈফিয়তে বলার কিছু নেই, বলবো শুধু এই - যাদের তরে লিখছি, যদি তারা বুঝতে পারে, তবেই হলো সারা আমার সকল কাজ। নইলে কথার ভাঁজ বাড়বে যতো ততোই হবে ভুল, যার কিছু নেই মূল।