অগ্নিকুন্ডু

পাঁচ পাঁচ দশটা মুন্ডু
	রাবণের - শ্রাবণের - এই রাত -
		যেনো এক অগ্নিকুন্ডু।

ঘরে নেই চাল নেই ডাল নেই মাছ -
	হায়রে ভেন্না গাছ;
		ভ্যানর ভ্যানর করে,
	বন বন ঘুরে শুধু মাথাটা
টাপুশ টুপুশ করে রাতদিন ভিজে ছেঁড়া কাঁথাটা;
	রক্তের মাঝে তবু তোলপার করে শুধু
		গাঁজা, ভাঙ্, চরস্ আর চন্ডু।
		পাঁচ পাঁচ দশটা মুন্ডু ---

কুটকুট কামড়ায় মশা কি;
	ওদের কাটেনা রাত, আমাদের মত এক দশা কি;
		যাকগে্, নিকগে্ -
			ভেজালের পানসে রক্ত
	তবুও মরে না ভাই শকুনির মতো ওরা শক্ত।
হায়রে রক্ত চোষার দল!
	কতো কাল আর কতো কাল এমনি রক্ত চুষবে,
	পরের মটকে ঘাড় পরের চিবিয়ে হাড়
		তোমাদের মাগ্ পোলা পুষবে!
ঐ ঝড় আসেরে - কড় কড় বাজেরে, ঝড় আসে -
	তোদের তাসের ঘর করবে লন্ডু ভন্ডু।
		পাঁচ পাঁচ দশটা মুন্ডু -----

গান

(১)
এতো রূপ আছে ভুবনে, আগেতো পড়েনি নয়নে,
এতা সুখ এতো গান, বুক ভরা অফুরান;
			ভয় বাধা নেই কিছু নেই।
			তুমি মোর পাশে এলে যেই।

কি মধুর এই ভোর ফুলের হাসি,
আগেতো বুঝিনি এতো ভাল যে বাসি;
পাখিদের কলগান, আবেশে জুরায় প্রাণ,
			হৃদয় হারায় বুঝি খেই।

এই বন উপবন সবুজ মায়া,
ঐ দূর আকাশের সুনীল কায়া;
রোদের সোনালী রূপ, দেখি আজ অপরূপ
			আশা যে মেটে না কিছুতেই।

(২)
আমার পৃথিবী আধারে গিয়েছে ছেয়ে;
কেগো তুমি দূরে তারকার মত
		আমা পানে আছো চেয়ে।

হেথা নাই কোনো আশার আলোক
			জীবনের পরিচয়,
গহণ আঁধারে সকলই পেয়েছে লয়;
আমার হৃদয়ে যতো ব্যথা জাগে
একা একা আমি ফিরি তারই গান গেয়ে।

কেগো তুমি দূরে শুধু চেয়ে রও
			কেনো কিছু নাহি বলি,
তোমার চাহনি যায় যে হৃদয় দলি;
যদি জেনে থাকো গোপন এ ব্যথা
এসো তব হেথা আলোর তরনী বেয়ে।

(৩)
গলে যদি নাই পরাবে গাঁথলে কেন ফুলের মালা।
নয়ন জলে করলে কেন দিগুন আমার হৃদয় জ্বালা।

	ধরা যদি নাই দিবে গো
হাসলে কেন মধুর হাসি
	করলে কেন অমন ধারা
			চাওনি চোখের সর্বনাশী,
বৃথাই গেল কোয়েলগীতি ফুল ফাগুনের বরণ ডালা।
	তোমায় আমি চেয়েছিলাম
			সেতো তোমায় পাবো বলে,
	তাইতো এতো ভুলেছিলাম
			তোমার যতো কপট ছলে,
দেখেছিলাম রূপের ছটা জানিনি তো মনের কালা।

(৪)
এখনো রাত্রি হয়নি প্রভাত এখনো ডাকেনি পাখী,
এখনো আসেনি বিদায় লগন ঝুরে কেনো তব আঁখি।

		চলে যাবো জানি তোমারে ছাড়িয়া
				বহুদূরে বহুদূরে,
		দেহ যাবে শুধু প্রাণ মোর হেথা
				আসিবে যে ঘুরে ঘুরে,
নয়নের জলে যে কথা জানালে মনে হবে থাকি থাকি।
		মিলনের পরে বিরহের পালা
				আসে ফিরে ফিরে আসে,
		আবার মিলনে আঁখি জল মুছে
				হাসে আঁখি শুধু হাসে,
এতো ভাবনার আছে কি যে আর জীবন এখনো বাকী।

(৫)
আমি বনের কুসুম
		ফুটি অন্তরালে ঝরি অন্তরালে।
পথ পানে চেয়ে থাকি অধীর নয়ন
কেউতো আসেনা মোরে করে না চয়ন,
		কোন ভ্রমর অলি
		কথা যায় না বলি
দখিনা দেয় না দোলা আমার ডালে।

বৃথাই যায়গো কেটে জীবন বেলা
বাতাস সুরভি নিয়ে করেনা খেলা,
		শুধু শিশির কণা
		ঝরে অন্যমনা
ব্যথিত অশ্রু কার আমার ভালে।